• সিলেট, রাত ৯:৪৮, ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে সরকার গঠন করব? রয়টার্সকে তারেক রহমান

admin
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬
প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে সরকার গঠন করব? রয়টার্সকে তারেক রহমান

Manual2 Ad Code

প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে সরকার গঠন করব? রয়টার্সকে তারেক রহমান
অনলাইন ডেস্ক

Manual8 Ad Code

 

আসন্ন নির্বাচনের পর একটি জাতীয় সরকার গঠনে জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, তার দল এককভাবে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।

শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রায় দুই দশক লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ডিসেম্বরে দেশে ফিরেছেন। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর তিনি দেশে ফেরেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াত জানিয়েছিল, তারা একটি জাতীয় বা ঐকমত্যের সরকার গঠনে আগ্রহী, যা দেশের স্থিতিশীলতা ফেরাতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে কয়েক মাসের অস্থিরতায় দেশের পোশাকশিল্পে যে বড় ধরনের ছন্দপতন ঘটেছে, তা কাটিয়ে উঠতে এমন একটি সরকার প্রয়োজন বলে মনে করে দলটি।

নিজের দলীয় কার্যালয়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান জামায়াতের এই প্রস্তাব নাকচ করেন। তিনি বলেন, “জনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে আমি কীভাবে সরকার গঠন করতে পারি? তাহলে বিরোধী দলে কে থাকবে?”

নিজের বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবির নিচে বসে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, “আমি জানি না তারা (জামায়াত) কতটি আসন পাবে। তবে তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, তাহলে আমি আশা করব, তাদেরকে একটি ভালো বিরোধী দল হিসেবেই পাব।”

তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয়ের ব্যাপারে বিএনপি আত্মবিশ্বাসী। দলটির মিত্ররা বাকি আসনগুলোতে লড়লেও বিএনপি একাই ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে।

কতটি আসনে জয়ের আশা করছেন—এমন সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ না করলেও তারেক রহমান বলেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসী যে সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসন আমরা পাব।।”

Manual2 Ad Code

জনমত জরিপগুলোতেও বিএনপির জয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, তবে জামায়াত জোটের দিক থেকেও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা রয়েছে। এই জোটে তরুণদের একটি দলও রয়েছে। হাসিনাবিরোধী আন্দোলন থেকে এই দলটির উদ্ভব।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে এই সুযোগে চীন বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে শুরু করে। নির্বাচনে জয়ী হলে ভারতের দিক থেকে সরে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সক্ষম অংশীদারদেরই প্রয়োজন।

বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা যদি সরকার গঠন করি, আমাদের তরুণদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে ব্যবসার পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে কর্মসংস্থান হয় এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।”

Manual5 Ad Code

পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যারা আমার দেশের ও জনগণের জন্য যা উপযুক্ত, তা দেবে— তাদের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্ব হবে; নির্দিষ্ট কোনও দেশের সঙ্গে নয়।”

Manual5 Ad Code

শেখ হাসিনার ছেলেমেয়েরা বিদেশ থেকে ফিরে রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, “জনগণ যদি কাউকে গ্রহণ করে, জনগণ যদি তাদের স্বাগত জানায়, তবে যে কারও রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে।”

নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। অন্তর্বর্তী সরকার গত বছর জানিয়েছিল, নিজেদের নানামুখী সংকটের কারণে শরণার্থীদের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করার সক্ষমতা তাদের নেই।

রোহিঙ্গাদের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, তিনিও চান রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাক, তবে তা কেবল নিরাপদ পরিস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পরেই।

তিনি বলেন, “এসব মানুষ যাতে তাদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরে যেতে পারে, সেজন্য আমরা ওই সমস্যা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করব। তবে ফিরে যাওয়ার মতো নিরাপদ পরিস্থিতি তৈরি হতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিরাপদ না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের এখানে থাকার বিষয়টি আমরা স্বাগত জানাই।” সূত্র: রয়টার্স

বিডি প্রতিদিন

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com