জৈন্তাপুরে মাটি খে*কো*দের রুখতে মন্ত্রীর আরিফুল হক চৌধুরীর ক*ড়া বার্তা
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় পাহাড় ও টিলা কৃষি জমি কাটার প্রতিযোগিতায় মেতেছে এক শ্রেণির প্রভাবশালী ভূমিখেকো চক্র। দিনের আলোয় পরিবেশের দোহাই দিলেও, সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই শুরু হয় এক্সকাভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কাটার তাণ্ডব।
উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন বাড়িতে টিলা ও হাওর এলাকায় কৃষি ও সরকারি খাস জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ এর ৫ আগস্ট পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা বিগ্নতা, ঘটায় এমন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকবৃন্দ।
এসব কর্মকান্ডে পরিবেশ যেমব বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে তেমনি করে কৃষি জমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রাস্তা দিয়ে মাটি বোঝাই ভারি ট্রাক গাড়িগুলো চলাচলের কারণে রাস্তার ভাঙ্গনসহ ধুলাবালির কারণে বিভিন্ন রোগ বালাই দেখা দিয়েছে স্থানীয় জনসাধারণের। এইসব থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
তবে এবার প্রশাসনের নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি সরাসরি স্থানীয় সাংসদ সরকারের শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কঠোর নির্দেশনার পর টনক নড়তে শুরু করেছে সংশ্লিষ্টদের।
উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালিয়ে জরিমানা এবং সরঞ্জাম জব্দ করলেও থামানো যাচ্ছিল না এই ধ্বংসযজ্ঞ। চক্রটি প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে তাদের কাজের সময় ও কৌশল বারবার পরিবর্তন করছিল।
তবে সম্প্রতি বিষয়টি উচ্চপর্যায়ের নজরে আসায় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশ আসায় নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। মন্ত্রীর নির্দেশনার পর এখন থেকে শুধু জরিমানা নয়, বরং জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ছড়িয়ে থাকা প্রাকৃতিক পাহাড় ও কৃষি জমি রক্ষায় আইন থাকলেও তা মানছে না প্রভাবশালী চক্র। রাত গভীর হওয়ার সাথে সাথে ডাম্প ট্রাক (ট্রলি) ও ভেকু নিয়ে নেমে পড়ে তারা। এতে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকিতে পড়ছে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত সাধারণ মানুষ। তারা বলছে এসব কাজে স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ জড়িত থাকায়, স্থানীয় প্রশাস মেনেজ করেই এমন কর্মকান্ড চলছে।
পরিবেশবিদরা মনে করছেন, এভাবে টিলা কাটা অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। শুধু অভিযান নয়, বরং স্থায়ীভাবে এই চক্রকে নির্মূল করতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সদিচ্ছার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
এখন দেখার বিষয়, মন্ত্রীর এই কঠোর বার্তা জৈন্তাপুরের সবুজ প্রকৃতিকে কতটা সুরক্ষা দিতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, “পরিবেশ ধ্বংস করে যারা পাহাড় ও টিলা, কৃষি জমি কাটছে, তারা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, ছাড় দেওয়া হবে না। মন্ত্রীর নির্দেশনার পর আমাদের অভিযান আরও কঠোর করা হয়েছে। পাহাড়, টিলা, কৃষি জমি ও অবৈধভাবে বালু পাথর পরিবহনে যারা জড়িত রয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনতে ইতিমধ্যে নিয়মিত মামলাসহ পরিবেশ অধিদপ্তর এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তালিকা পাঠানো হয়েছে। প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা করা কেবল প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, এটি পুরো সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। নদী, পাহাড় ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করতে সবার সচেতনতা জরুরি। আমাদেরকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হব। এই বিষয়ে কোন ছাড় নয়, আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।”