আইসিসিবিতে ট্যুরিজম ফেয়ারের উদ্বোধনে পর্যটনমন্ত্রী
পর্যটন খাতের বিকাশে বেসরকারি বিনিয়োগ ও পিপিপি মডেলে গুরুত্ব দেওয়া হবে
অনলাইন ডেস্ক
দেশের পর্যটন খাতের টেকসই বিকাশ ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
আজ রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের (এটিএফ) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় তিন দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করছে ভ্রমণবিষয়ক সাময়িকী ‘পর্যটন বিচিত্রা’।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিমানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নতুন পর্যটননীতিতে বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ওপর জোর দেওয়া হবে। সরকারি ও বেসরকারি খাত এবং স্থানীয় সম্প্রদায়কে এক হয়ে কাজ করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ অঙ্গীকার ছাড়া পর্যটন খাত কখনো বিকশিত হতে পারে না।
পর্যটন খাতকে দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত—কাজ শুরু করতে হবে আজ থেকেই, আগামীকালের জন্য অপেক্ষা করা যাবে না। আমাদের দেশের জন্য আমাদেরকেই কাজ করতে হবে, অন্য কেউ এসে আমাদের জন্য কাজ করে দেবে না। বর্তমানে জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান মাত্র ২-৩ শতাংশ, যা ৮-৯ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে পর্যটন খাতকে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আঞ্চলিক সুষম উন্নয়নের বড় অ্যাজেন্ডা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে আমরা দেশজুড়ে ১৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণ চিহ্নিত করে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে কাজ করছি।
কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে বিশেষ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, কক্সবাজারকে একটি আঞ্চলিক পর্যটন হাবে রূপান্তর করা হচ্ছে। নবনির্মিত কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অন্যতম মূল লক্ষ্যই হলো আন্তর্জাতিক ও বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা। পাশাপাশি সমুদ্রসৈকতে আসা পর্যটকদের জন্য ফ্রেশ ওয়াটার শাওয়ার, চেঞ্জিং রুম, লকার, নাইট লাইটিং বা সোলার লাইট, ট্যুরিস্ট পুলিশ, রেসকিউ টিম ও প্রাথমিক চিকিৎসার সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করা হবে, যেন পর্যটকরা নিজেদের সম্পূর্ণ নিরাপদ মনে করেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২০০টিরও বেশি পর্যটন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০০টি স্টল নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের এটিএফ মেলা। মেলায় হোটেল, রিসোর্ট, এয়ারলাইন্স, ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলো তাদের নানা পণ্য ও সেবা উপস্থাপন করছে। এবারের মেলার পার্টনার কান্ট্রি হিসেবে রয়েছে থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও মালদ্বীপ এবং টাইটেল স্পন্সর হিসেবে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
বিডি প্রতিদিন