‘ছেলেটা আমার কাছে এসে চা চেয়েছিল। আমি চা বানাচ্ছিলাম। এর মধ্যেই হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ। দেখি, ছেলেটা মাটিতে পড়ে আছে। মাথা থেকে রক্ত পড়ছিল,’ এভাবে রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে সড়কের পাশে ককটেল বিস্ফোরণে এক যুবক নিহতের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী চা–দোকানি।
Manual3 Ad Code
আজ বুধবার রাত পৌনে আটটার দিকে নিউ ইস্কাটনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সামনে বিস্ফোরণে যুবকের প্রাণহানির এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম সিয়াম মজুমদার (১৯)। তিনি ঘটনাস্থলের সড়কের উল্টো দিকের একটি মোটর পার্টসের দোকানে কাজ করতেন।
রাজধানীর মগবাজার মোড় থেকে কয়েক গজ দূরে মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের ফটকের সামনের ফুটপাতে বেশ কয়েকটি চায়ের দোকান রয়েছে। ওই জায়গার দুই পাশে দুটি স্কুল রয়েছে। এ কারণে সকাল থেকে সারা দিনই দোকানগুলোতে স্কুলশিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ মানুষের সমাগম থাকে। সন্ধ্যার পর সেখানে নাটক ও চলচ্চিত্রজগতের অনেকে আড্ডা দেন।
Manual2 Ad Code
সেখানকার ফুটপাতের চা–দোকানি মো. ফারুক বিস্ফোরণে ঘটনার ওই বিবরণ প্রথম আলোকে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ফ্লাইওভার থেকে ককটেল বা বোমা হয়তো তার মাথায় পড়েছে।’
এ বিষয়ে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, ফ্লাইওভার থেকে ছোড়া একটি শক্তিশালী ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ওই যুবক গুরুতর আহত হন। কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
রাত ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত সিয়ামের বাবা আলী আকবর মজুমদারকে বিলাপ করতে দেখা যায়। আলী আকবর পেশায় রিকশাচালক। তাঁরা থাকেন ইস্কাটনের দুই হাজার গলিতে। গ্রামের বাড়ি খুলনার দিঘলিয়ায়।
আলী আকবর বলেন, ‘সকাল ৯টায় বাসা থেকে কাজে বের হয়েছিল সিয়াম। মোটরপার্টসের দোকান থেকে চায়ের দোকানে কাপ দিতে গিয়েছিল। ওর মাথায় বোমা পড়েছে।’