মৌলভীবাজারের সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেছেন, সমাজ পরিবর্তন কারো একাই সম্ভব নয়। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তন সম্ভব। আমাদের যে কথা গুলো উঠে আসছে অধিকাংশই সামাজিক ব্যাধি। মোটরসাইকেল সাউন্ড, সাইলেন্সার ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো, মোটরসাইকেল টিনেজার, কিশোর গ্যাং, এই সবগুলো সামাজিক অবক্ষয়ের একটা অংশ। এভাবে অবক্ষয়টা একদিনের না, এক সময় ছিল আমি যখন আমার পরিবারের কর্তা ব্যক্তি। আমার পরিবারের ১০ জন সদস্য আছে, আমি কর্তা ব্যক্তি কোনো ইলিগ্যাল সার্পোট কিছু করি, অনৈতিক এবং অবৈধ্য কোনো কিছু করি বা দৃশ্যমান কিছু করি তাহলে পরিবারের বাকি ৯ জন সদস্য তাদের ওপর কিন্ত আমি বিচার করার ক্ষমতা হারাই, নিজেই-তো ইলীগ্যাল, নীতিগতভাবে দূর্বল তাহলে পরিবারের বাকি ৯জনকে শাসন করবো কিভাবে। এভাবে সমাজে প্রতিটা ক্ষেত্রে হয়ে আসছে। যার ফলে কিশোর গ্যাং, সাইলেন্সার ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো অন্যান্য সামাজি ব্যাধি যেসব লক্ষণগুলো আছে একদিনে হয়নি? অনেক দিনে হয়েছে। হয়তো আমাদের সকলের পার্টিসিপেটে দূর্বলতা ছিল। যে ব্যবস্থা চলতো সোজা পথে, চলছিলো উল্টা পথে, উল্টা পথ থেকে সোজা পথে আনতে আমাদের সময় লাগবে। সকলের সার্বিক সহযোগিতা ছাড়া কখন শুধু পুলিশ শুধু সাংবাদিক আপনারা কারো একা সম্ভব নয়।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকালের দিকে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলার সভায় সাংবাদিকরা জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের মতামত ও পুলিশের প্রতি প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
মতবিনিময়কালে পুলিশের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়ের, সদর মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম, ডিবির ওসি সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্য, ডিআইও ১ আবুল কাসেম।
যানজট নিরসন প্রসঙ্গে এসপি বিল্লাল হোসেন বলেন, ব্যাটারী চালিত টমটম রিকশা অনুমতি কারে দেয়? পুলিশ দেয় না কোনো দিন। যারা দেয় তাদেরকে আমাদের বলা উচিত, আপনারা নিয়ন্ত্রণ করেন- আমরা অনেক সময় অনেক সত্য কথা বলতে পারি না। যানজট নিরসন আমরা করবো। তবে আমার রাস্তার চওড়া কত আমার গাড়ি কতটুকু, গাড়িগুলো আমরা পুলিশ দেইনা, গাড়ি গুলো আসে কোথায় থেকে, কারা পারমিশন দেয়, এসব আমাদের একটু খেয়াল করা উচিত। সমন্বিত ছাড়া কোনো কাজ করা সমাধান হবে না।
সামাজি যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফেক আইডি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফেক আইডি আমাদের বানিং ইস্যু। এজন্য আমাদের নির্বাচন কমিশন একটা ব্যবস্থা নিচ্ছে আশাকরি এব্যাপারে আমরা কাজ করতে সক্ষম হবো।
অবৈধ্য অস্ত্র উদ্ধার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মৌলভীবাজার জেলা অন্যান্য জেলা থেকে অত্যন্ত ভালো,খুবই ভালো। এখানে কোনো অস্ত্র লুট হয় নাই। এটার কারণ কি পুলিশ? আপনারা। আপনারা সচেতন ছিলেন বিধায় থানা থেকে অস্ত্র লুট হয় নাই। মৌলভীবাজারে কোনো অবৈধ্য অস্ত্র নেই।’
মাদক বিস্তার প্রসঙ্গে এসপি বলেন, মাদক কে খাচ্ছে? আমার বাড়ি (এসপি) নবীনগরে সেখান কেউ এসে এখানে খাচ্ছে? কারা খাচ্ছে-তারাতো সবাই লোকাল, তারাতো কারো সন্তান কারো ভাই। এটাতো সামাজিক ব্যাধির একটা অংশ। আমরা চেষ্টা করবো আইনগত ব্যবস্থা। আইনটা কি আইন কখন প্রয়োগ করা হয়। কোনো বিষয় এক্সট্রিম পর্যায়ে চলে গেলে তখন আইন প্রয়োগ করা হয়। আমরা এখন দেখি কি, আইনের আশ্রয় প্রথম নেয়। তাহলে আমাদের রুলটা কি। আমাদের সামাজিক রুল আছে। আমার সমাজে আমি একজন মানুষ। তাই সকলের দায়িত্ব হলো মাদক বিস্তার প্রতিরোধে এগিয়ে আসা।
তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও সাংবাদিকেরা পরস্পরের সহযোগী। শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবার সম্মিলিত কাজ করতে হবে।
এ মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন, মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের আহবায়ক বকশি ইকবাল ও সদস্য সচিব বাংলাভিশন, দৈনিক জনকন্ঠের জেলা প্রতিনিধি হুমায়েদ আলী শাহীন, চ্যানেল আইয়ের এম এ সালাম, সিনিয়র সাংবাদিক এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি এস এম উমেদ আলী, দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম মুহিব, মানবজমিনের মু ইমাদ উদ্দীন, একাত্তর টেলিভিশনের আহমদ ফারুক মিল্লাদ, দৈনিক কালের কন্ঠ ও ঢাকা ট্রিবিউনের সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
সভায় পুলিশ সুপার বলেন, জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে জেলা পুলিশ সর্বদা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী – সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার আশা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কোথাও বিচ্যুতি পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।