• সিলেট, রাত ৪:৪৫, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গত ১৬ বছর ধরে নির্বাচনের নামে কতগুলো তামাশা হয়েছে: তারেক রহমান

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
গত ১৬ বছর ধরে নির্বাচনের নামে কতগুলো তামাশা হয়েছে: তারেক রহমান

Manual1 Ad Code

গত ১৬ বছর ধরে নির্বাচনের নামে কতগুলো তামাশা হয়েছে: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

Manual7 Ad Code

মৌলভীবাজারে নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এই যে নির্বাচনের দিকে আমরা এগুচ্ছি, কি পরিস্থিতিতে আমরা এ জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি। আপনারা দেখেছেন, আপনারা জানেন গত ১৫/১৬ বছর ধরে তথা কথিত নির্বাচনের নামে কতগুলো তামাশা হয়েছে। নিশিরাতে নির্বাচন হয়েছে, আরেকবার ভোট চুরির নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু জনগনকে ভোট দিতে দেয় নাই। আপনারা ভোট দিতে পেরেছেন? আপনারা ভোট দিতে পারেন নাই।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগষ্ট এই দেশ ছেড়ে যারা পালিয়ে গিয়েছে, এরা গত ১৫/১৬ বছর বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে ছিল, এরা বাংলাদেশের মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। কেউ অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে গুম হয়ে যেতো, না হলে গায়েবি মামলা দিত, না হয় মিথ্যা মামলার বন্দি হতো, তা না হলে তাদের ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করতো, তা না হয় তারা বাংলাদেশের মানুষের অর্থ সম্পদ সব লুটপাট করে নিয়ে গেছে বিদেশে পাচার করে দিয়েছে। গত ১৫ বছর এই এলাকায় না কোনো উন্নয়ন কাজ হয়েছে, না কোনো রাস্তাঘাট হয়েছে, না কোনো হাসপাতাল হয়েছে, না কোনো মেডিক্যাল কলেজ হয়েছে, কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময় ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সাইফুর রহমান সাহেব অনেক গুলো উন্নয়নের কাজ করেছিল। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনে ষড়যন্ত্র করে এই স্বৈরাচার সরকার যখন ক্ষমতায় এলো তখন সব বন্ধ হয়ে গেল। মানুষের কথা বলার অধিকার ছিল না তাই জনগন কাউকে তাদের দুঃখ কষ্টের কথা বলতে পারেনি। এলাকার সমস্যার কথা যে বলবে সেই মানুষটিও ছিল না, আমরা সংসদ ভবনে কি দেখেছি গান হচ্ছে, প্রশংসা হচ্ছে এমন সব কাজ হয়েছে যা মানুষের কাম্য ছিল না। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই দলটি বলছে তাদের হাতে নাকি ব্যালট পেপার চলে গেছে।

এসব বক্তব্যের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, যারা এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের বয়কট করতে হবে। তিনি সরকার প্রধানের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, তাদের নেতাকে তিনগুণ বেশি প্রোটোকল দেওয়া হোক, তবুও দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা যেন না করা হয়।

Manual2 Ad Code

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা ৫মিনিটে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর বাজারসংলগ্ন আইনপুর খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

Manual6 Ad Code

তারেক রহমান বলেন, বিএনপির ধানের শীষে ভোট দিলে চা-শ্রমিকসহ সব দিনমজুর শ্রেণির নারীদের ঘরে ঘরে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ে তুলে বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার আশ্বাস দেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, ২০০৮ সালে একটি দল ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে নিশিরাতের ভোট ও ভোটচুরির নির্বাচন করেছে এবং ব্যাংক ও জনগণের সম্পদ লুট করে পালিয়েছে। তারেক রহমান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছিলেন এবং খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হয়ে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা চালু করেছিলেন।
তিনি বলেন, লুটেরা গুম-খুন ও সম্পদ হরণ করে পালিয়েছে। এখন সময় ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’-এর। অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুন। যৌথ সঞ্চালনায় ছিলেন সদস্যসচিব আব্দুর রহিম রিপন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান। স্বাগত বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের বিএনপি প্রার্থী এম নাসের রহমান।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন জেলার অপর তিন আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী, নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠু, শওকতুল ইসলাম শকু। এছাড়াও আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গউছ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতা সিদ্দিকী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ফয়সল আহমদ চৌধুরী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুর রহমান মজনু, জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন উজ্জ্বল এবং বিএনপির শরিক দল জমিয়তে উলামা জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা জামিউল আহমদ আনসারী, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রেজিনা নাসেরসহ আরও অনেকে।

সমাবেশস্থলে পৌঁছে তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার আগে সামনের সারিতে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে করমর্দন করে কুশল বিনিময় করেন। পরে তিনি জেলার চারটি আসনের ধানের শীষ প্রার্থীদের জনতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি হজ পালনকারী এক ব্যক্তিকে মঞ্চে ডেকে প্রশ্ন করেন হজ কোথায় পালন করেছেন। উত্তরে ওই ব্যক্তি বলেন, মক্কায়। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করেন, বেহেশত-দোজখের মালিক কে? জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, আল্লাহ। তখন তারেক রহমান প্রশ্ন করেন, তাহলে ওই দলে ভোট দিলে কি বেহেশতে যাওয়া যাবে? সমস্বরে উপস্থিত জনতা বলেন, না। এরপর ওই ব্যক্তিকে তাঁর আসনে বসান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপির মূল শক্তি জনগণ। জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই বিজয় অর্জিত হলে সব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শহীদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হবে বলেও তিনি জানান।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, করবো কাজ, গড়বো দেশ সবার আগে বাংলাদেশ। দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ সবার আগে বাংলাদেশ। বিকেল ৩টা ৫৫ মিনিটের দিকে বক্তব্য শেষ করে তিনি সড়কপথে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন।

Manual8 Ad Code

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com