যে কারণে লন্ডন প্রবাসী শফি হ ত্যা : ৩জন পাকড়াও
নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যক্তিগত দ্বন্দের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় লন্ডন প্রবাসী বোরহান উদ্দিন শফিকে (৫৯)। এ ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ নারায়নগঞ্জসহ সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় পুলিশ ৩জনকে গ্রেফতার করেছে।
রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এসব তথ্য জানান সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক্রাইম অ্যান্ড অপস। নিহত বুরহান উদ্দিন শফি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরের হবিবপুর আশিঘর গ্রামের সমছু মিয়ার ছেলে।
লন্ডন প্রবাসী শফি হত্যার পর পরই ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য মাঠে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। প্রযুক্তির সহযোগীতার পাশাপাশি পুলিশ নানা তথ্য বিশ্লেষণের পর আসামীদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় অভিযানে নামে।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, সিলেটের জকিগঞ্জের ইলাবাজ গ্রামের আব্দুস সামাদ দুলনের ছেলে সাব্বির আহমদ (২১), নারায়নগঞ্জের পূর্বাচল এলাকার সৈয়দ মুহিবুর সামাদ শাহীনের ছেলে সৈয়দ মেহরাজ উজ সামাদ শোভনকে (২০) ও জকিগঞ্জের ঘেচুয়া গ্রামের আবদুল হকের ছেলে তাহিরুল হক (২০)।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) থেকে (২১ ফেব্রুয়ারি) পৃথক অভিযান চালিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ জকিগঞ্জ থেকে লন্ডন প্রবাসি শফিকে হত্যার দায়ে সাব্বির আহমদকে প্রথমে গ্রেফতার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গোয়েন্দা পুলিশ সিলেটকে জকিগঞ্জ থানাধীন সুলতানপুর এলাকা থেকে অপর আসামী তাহিরুল হককে গ্রেফতার করার পর তরা দুজনই আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি। এরপর পুলিশ নিহত শফিকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ অপর আসামী সাব্বির আহমদকে তার শ্বশুর বাড়ি জকিগঞ্জের লালাগ্রাম থেকে গ্রেফতার করে গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, লন্ডন প্রবাসি শফিকে পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত দ্বন্দের জেরে হত্যা করার পর তার মরদেহ গত ৩ ফেব্রুয়ারি জকিগঞ্জ থানাধীন মাসেরচক হাওর বিলপাড়ে আগুন দিয়ে পুড়ানো হয়। যাতে করে তার পরিচয় শনাক্ত সম্ভব না হয়। মামলা হওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশ প্রযুক্তি ও উদ্ধারকৃত আলামতসহ বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে।
তিনি জানান, শফি হত্যার ঘটনায় আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে সাব্বির আহমদ ও সৈয়দ শোভন।এদিকে অপর আসামী তাহিরুলকে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে নিহত শফির মোটরসাইকেলসহ গ্রেফতার করা হয়। উক্ত মামলার অন্যান্য আলামত জব্দ ও আসামী গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে বলে তিনি জানান।
জানা যায়, নিহত শফি স্বপরিবারে প্রায় ৩০ বছর থেকে লন্ডনে বসবাস করতেন। নিখোঁজের ৪ দিন পর মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জকিগঞ্জের সুলতানপুর ইউনিয়নের কোনারবন্দ হাওর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটি আগুনে পোড়ানো ও গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সাথে মরদেহের পাশেই পাওয়া যায় লবণের একটি প্যাকেট। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও মরদেহ উদ্ধারের পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর একটি টিম মরদেহের পরিচয় প্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্ত করে।