সিলেট বিএনপিতে সুবাতাস, চা ঙা নেতাকর্মীরা
এনামুল কবীর
বিষয়টি আগেই অনুমান করছিলেন অনেকে। বিশেষ করে রাজনীতি সচেতনরা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দল গোছাতে কে না চায়! চায় বিএনপিও। এই চাওয়াকে বাস্তবায়ন করতেই সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্তত ৪৩ জন বিএনপি নেতার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
দলের এই সিদ্ধান্তে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপিতে সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। গুমোট ভাব কাটিয়ে চাঙা হয়ে উঠতে শুরু করেছেন সদ্যপ্রত্যাগত নেতৃবৃন্দ ও তাদের কর্মী সমর্থক এবং ভক্ত অনুরাগীরা। তাদের প্রাথমিক সদস্য পদও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৯ নভেম্বর) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি প্রকাশের পর থেকেই সিলেটের জাতীয়তাবাদী ঘরানার রাজনীতিতে সুবাতাস বইতে শুরু করে।
দলে ফিরে আসা নেতৃবৃন্দ ও তাদের কর্মী সমর্থকরা বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল-র্যালি বের করেন। দীর্ঘদিনের গুমোট ভাব ও স্থবিরতা কাটিয়ে রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের আনন্দে তারা রীতিমতো অভিভূত। উদযাপনও করছেন তারা সবাইকে নিয়ে।
জানা গেছে, সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড, সদরের তেমুখী, বিশ্বনাথের লামাকাজী, গোয়াইনঘাটের রাধানগর, জৈন্তাপুরের চিকনাগুলসহ সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় এ উপলক্ষে আনন্দ মিছিল র্যালি ও মিষ্টি বিতরণ করেছেন উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীরা।
বিএনপি এরকম একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে সচেতন মহল অনুমান করছিলেন। কারণ, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে সুসংগঠিত করতে এর কোনো বিকল্পও ছিলনা। তাছাড়া ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর এখন ক্ষমতার কাছাকাছি বিএনপি।
এ সময়টাতে দলের অভ্যন্তরিন সমস্যার কারণে সামান্য ক্ষতিও কাংখিত জয়ের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির শঙ্কা জাগায়। তাছাড়া যারা বহিস্কার হয়েছিলেন, তারাও দলে ফিরতে রীতিমতো ছটফট করছিলেন। নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করে এবং আগামী দিনগুলোতে দলের প্রতি অনুগত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমা চেয়ে আবেদন নিবেদন করেছেন অনেকেই।
সর্বোপরি, ভোটের রাজনীতিতে এসব নেতার প্রত্যেকেরই ব্যাপক প্রভাব যে আছে, তা সর্বজনবিদিত। তাছাড়া বহিস্কারের আগেতো তারা দলের জন্য যথেষ্ট ত্যাগও স্বীকার করেছেন, বিভিন্নভাবে মূ্ল্যবান অবদান রেখেছেন।
সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে বিএনপি এক্ষেত্রে যে উদারতার পরিচয় দিয়েছে, সেজন্য তৃণমূলের কাছে দলটির ভাবমুর্তি উজ্জ্বল হয়েছে কয়েকগুণ।
বিএনপির এই সিদ্ধান্ত দলটির ঐক্য দৃঢ় করতে এবং আগামী নির্বাচনে জয়লাভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছেন সবাই।
সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আলতাফ হোসেন সুমন, সিসিক’র গত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে দল থেকে বহিস্কার হয়েছিলেন। তিনি অবশ্য কাউন্সিলরও হয়েছিলেন। কিন্তু তবু যাবতীয় দলীয় তৎপরতা থেকে কয়েক বছর নিজেকে বিরত রাখতে বাধ্য হয়েছেন সুমন।
প্রিয় দলে প্রত্যাবর্তনের পর তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তার এলাকায় দলীয় কর্মী সমর্থকরা মিছিল করেছেন। বিতরণ করা হয়েছে মিষ্টিও।
সিলেটভিউর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আল্লাহর প্রতি শোকরিয়া। আমার দলীয় নেতৃবৃন্দ যে উদারতা ও স্নেহ ভালবাসা দেখিয়েছেন, আগামীতে আমি তার সম্মাণ অবশ্যই অক্ষুন্ন রাখবো। দলের চেয়ারপার্ন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সিলেটের এবং কেন্দ্রের সব নেতৃবৃন্দের প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা।
সুমনের মতোই একজন ত্যাগী বিএনপি নেতা এবং একাধিকবারের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম। তিনিও আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছেন।
পরে দলের চেয়রপার্সন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান্য এবং সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, ইনশাল্লাহ অতীতের মতো আগামীতেও দলের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ করতে আমি প্রস্তুত। আমি আমার কাজ আর আনুগত্য দিয়েই দলের ভালোবাসার প্রতিদান দিবো।
এমন উচ্ছ্বাস বিএনপিতে প্রত্যাবর্তন করা সব নেতা এবং তাদের কর্মি সমর্থকও।
আর এর ইতিবাচক প্রভাব আগামী সংসদ নির্বাচনে দেখা যাবে বলেও মনে করছেন রাজনীতি সচেতন সব মহল।
সিলেটভিউ২৪ডটকম