উৎপাদনসক্ষমতা হারিয়েছে রংপুরের ৭ বিদ্যুৎকেন্দ্র, ঘন ঘন লোডশেডিং
অনলাইন ডেস্ক
রংপুর বিভাগে সাত বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনসক্ষমতা হারিয়ে বন্ধ। জ্বালানিসংকট, যান্ত্রিক ত্রুটি, উৎপাদন খরচ বেশি—এসব কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। যেগুলো চালু রয়েছে সেসব সক্ষমতার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে। ফলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। সেইসঙ্গে বাড়ছে গ্রাহকদের ভোগান্তি।
জানা গেছে, ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেয়। জ্বালানিসংকটের নেতিবাচক প্রভাব জনজীবনের প্রতিটি সেক্টরে পড়েছে। এর থেকে বাদ যায়নি বিদ্যুৎ খাতও। তেলের অভাবে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
সূত্রমতে, বড় পুকুরিয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদনের তিনটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। এই তিনটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ২৭৫ মেগাওয়াট। কয়লাসংকট ও যান্ত্রিক সমস্যার কারণে বড় পুকুড়িয়ার বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কবে নাগাদ চালু হবে সংশ্লিষ্টরা কেউ বলতে পারছেন না। পিডিবি পার্বতীপুরে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতায় নির্মাণ করেছিল একটি কেন্দ্র। জ্বালানিসংকটসহ নানা কারণে সেটি বন্ধ রয়েছে। ঠাকুরগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনের সক্ষমতা ১১৩ মেগাওয়াট। ওই বিদুৎকেন্দ্রটি উৎপাদন করতে পারছে সক্ষমতার ৪০ শতাংশের কম। এটি জ্বালানিসংকটের কারণে হয়েছে। সৈয়দপুরে একটি ১৫০ মেগাওয়াট ও একটি ২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। রংপুরের ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রও বন্ধ। রংপুরের কনফিডেন্স পাওয়ার নামে একটি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের সক্ষমতা ১১৩ মেগাওয়াট। সেটি এখন উৎপাদন করতে পারছে ২০ থেকে ২৫ মেগাওয়াট।
গত কয়েক দিন থেকে রংপুরসহ সারা দেশেই চলছে তাপদাহ। এর মধ্যে চলছে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং। এ কারণে রংপুরের জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং দেওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ক্ষেত্রেই স্থবিরতা বিরাজ করছে।
রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা সাড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া পাওয়া যাচ্ছে ৭০০ থেকে ৭২০ মেগাওয়াট। মঙ্গলবার দুপুরে ঘাটতি ছিল প্রায় দেড়শ মেগাওয়াট। ফলে ঘন ঘন লোডশেডিং দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তবে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখ লাখ গ্রাহক।
রংপুর নেসকো সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট। চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে ১৫০ মেগাওয়াট কম। রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলায় চাহিদার চেয়ে ঘাটতি রয়েছে। ফলে অনেকস্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে পর্যায়ক্রমে লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ফলে শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমে গেছে। ফলে বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
নেসকোর রংপুর বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে।
বিডি প্রতিদিন