ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক
ব্যবসায় মন্দা কমেছে এলসি
অনলাইন ডেস্ক
দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে ব্যবসায়ীরা জানান, পণ্য আমদানির ঋণপত্র (এলসি) নিষ্পত্তির পরিমাণ কমে গেছে, কারণ ব্যবসাবাণিজ্যে মন্দা চলছে। কোরবানির ঈদের আগে মসলাজাতীয় পণ্যের আমদানি, মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা এমন তথ্য জানান। তবে বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থাপন করা কাগজপত্রে দেখানো হয়-দেশে আমদানি ও পণ্যের মজুত পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। দ্রব্যমূল্যসংক্রান্ত টাস্কফোর্স বিষয়ক এ সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তা ও পণ্যভিত্তিক ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে উপস্থিত সূত্রগুলো জানায়, টাস্কফোর্সের বৈঠকটি এমন সময় অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার তিন দিন আগে বাড়ানো হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। এ ছাড়া কোরবানির ঈদও আসন্ন। এ দুটি কারণে জিনিসপত্রের দাম বাড়ার পাশাপাশি উচ্চমূল্যস্ফীতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী বৈঠকে আশ্বস্ত করেছেন-জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও এর প্রভাব জনজীবনে খুব বেশি পড়বে না। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতির প্রভাব থেকে স্বল্প আয়ের মানুষকে সুরক্ষা দিতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সূত্র জানায়, বৈঠকে আলু ও পিঁয়াজের দাম নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন খাতসংশ্লিষ্টরা। বাণিজ্যমন্ত্রীকে তারা জানান, গত মৌসুমে আলু ও পিঁয়াজ উৎপাদন করে কৃষক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। উৎপাদন খরচের তুলনায় কম মূল্যে বিক্রি হচ্ছে পণ্য দুটি। আলু ও পিঁয়াজ চাষিদের ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয় বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে। সেটি না হলে আগামী মৌসুমে পণ্য দুটি উৎপাদনে কৃষক নিরুৎসাহিত হবেন বলে জানান তারা। সূত্রগুলো আরও জানায়, বৈঠকে ভোজ্যতেলের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জাহাজ ভাড়া বাড়ায় ভোজ্যতেল পরিশোধনকারীরা কয়েক দিন আগে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সে প্রস্তাব গ্রহণ করেনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ পরিস্থিতিতে বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ কমে গেছে বলে অভিযোগ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ব্যবসায়ীদের তিনি বলেন, বোতলজাত সয়াবিনের মূল্য লেবেলে উল্লেখ থাকায় দাম বাড়ানোর সুযোগ নেই। সে কারণে একটি চক্র বোতলজাত সয়াবিনের সরবররাহ কমিয়ে দিয়েছে। তার পরিবর্তে খোলা বাজারে বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রি করছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বোতলজাত সয়াবিনের সরবরাহ বাড়ানোর পরামর্শ দেন ব্যবসায়ীদের।
বৈঠক নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী যা বললেন : বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব খাদ্যপণ্যের ওপর তেমন প্রভাব পড়বে না। মূল্যস্ফীতি ঘটলেও সেটার প্রভাব যেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর না পড়ে সে জন্য হস্তক্ষেপ করবে সরকার। মন্ত্রী বলেন, সরকারের অনেক সোশ্যাল সেফটি নেট প্রোগ্রাম আছে, টিসিবি আছে, দুই ঈদে আলাদা করে ট্রাক সেল করা হয়। এ ছাড়া ফ্যামিলি কার্ড আছে, সেটির আস্তে আস্তে বিস্তার হবে। বাজার মনিটরিংয়ের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে ধারণার ওপর ভিত্তি করে বাজারে মূল্যস্ফীতি যাতে না বাড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বানও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এ মুহূর্তে আমদানি পণ্যের মজুত স্থিতিশীল। তবে খোলা সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও বোতলজাত তেলের ঘাটতি রয়েছে বলে স্বীকার করেন মন্ত্রী। বাজার ব্যবস্থাপনায় সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বিডি-প্রতিদিন