শ্রীমঙ্গল বোমা মেশিন দিয়ে অবাধে সিলিকা বালু উত্তোলন

প্রকাশিত: ৭:০৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০২০

শ্রীমঙ্গল বোমা মেশিন দিয়ে অবাধে সিলিকা বালু উত্তোলন

স্বপন দেব, মৌলভীবাজার :: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় অবৈধ ‘বোমা মেশিন’ দিয়ে ফসলি জমি ও ছড়া থেকে মূল্যবান সিলিকা বালু উত্তোলন করছেন একটি সিন্ডিকেট। এতে কয়েক কিলোমিটার এলাকা ভূমিধস ও পানি সংকটের আশঙ্কা করছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। হুমকিতে রয়েছে তিন ইউনিয়নের অন্তত প্রায় ১৫ থেকে ২০টি গ্রাম।
ীর্ঘ ১২ বছরধরে নির্বিঘ্নে বোমা মেশিন দিয়ে ফসলি জমি পুকুর আর ছড়া থেকে ‘সাা সোনা’ বলে খ্যাত সিলিকা বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। সরকারের মোটা অংকের রাজস্ব ফাঁকি দেয়ে ওই সিন্ডিকেট গ্রামীণ রাস্তাঘাট, ব্রীজ কালভার্ট ও ফসলি জমির ভূপ্রকৃতির অবস্থান বিনষ্ট করেছে। ফলে ুটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ভূপৃষ্টের পানির সংকটসহ ভুমিধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব সিলিকা বালু প্রতি ফুট ৩০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে ট্রাক যোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। রাস্ট্রীয় সম্পরে এমন হরিলুট করে প্রভাবশালী চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।
জানা যায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলার ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে সাতগাঁও লছনা নামক স্থানে। সেখানে থেকে সাতগাঁও স্টেশন চৌমুহনা ও ভুনবীর চৌমুহনা থেকে মির্জাপুর ইউনিয়নের বৌলাশীর পর্যন্ত আঞ্চলিক সড়কের দুপাশে অসংখ্য বালুর স্তুপ করে রাখা হয়েছে।
বালু ব্যবসাটি এলাকায় এমন পরিস্থিতি ধারণ করেছে লাভজনক হওয়াতে গ্রামের ভেতর দিয়ে ছোট ছোট ছড়া ও গ্রামে পুকুর থেকে বোমা মেশিন বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। প্রশাসন অভিযানে আসলে বালু তোলার কৌশল পরিবর্তন করে এখন রাতের আধারেও চলছে মূল্যবান সিলিকা বালু হরিলুট।
উপজেলায় একটি সাধারণ বালু ও ২৮টি সিলিকা বালুসহ মোট ২৯টি বালুর মহাল রয়েছে। এরমধ্যে বড়ছড়া, ঝলমছড়া, ভুরভুরিয়া ছড়া, জৈনকাছড়া, খাইছড়া, শাওনছড়া, নুলুয়াছড়া, পুটিয়াছড়া, হুগলিছড়া, গান্ধিছড়া ও আমরাইলছড়ায় প্রায় একযুগ ধরে বালু উত্তোলনে ইজারা বন্দোবস্ত নেই। অথচ উপজেলাজুড়ে পাহাড়ি ছড়া, ছোট নদী ও ফসলি জমি থেকে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন।
২০০৯ সাল থেকে উচ্চ আদালত ‘বোমা মেশিন’ ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু ওই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইউনিয়নটির প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পাইপ বসিয়ে উচ্চক্ষমতাপূর্ণ পাওয়ার পাম্প ব্যবহার করে এ যন্ত্র দিয়ে মাটির ১শ’ থেকে ২শ’ ফুট তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করছেন এই চক্র।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের ফলে দিনে বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এখন কৌশল পাল্টিয়েছে বোমা মেশিন-এর প্রভাবশালী চক্র। তারা এখন রাতে বালু তোলার কৌশল নিয়েছেন। তারা রাতে ভূনবীর ও মির্জাপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ ফসলি জমি ও ছড়া থেকে মেশিন দিয়ে বালু তুলছেন।
বেলা’র সিলেটের সমন্ধয়ক সাহেদা আক্তার বলেন, সিলিকা বালু তোলার কারণে ভূমিধস হচ্চে এই কারণে হাইকোর্টে আমরা একটি রিট করেছিলাম। ছড়াগুলো বেশীর ভাগ বন ও চাবাগানের মধ্যে দিয়ে গেছি। এভাবে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশ প্রতিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট হচ্ছে।
এলাকাটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে একথা স্বীকার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি ুইটি অভিযান চালিয়ে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি। যি বালু মহালগুলো ইজারা দেয়া হয় তা হলে আমার মনে হয় এটা রোধ করা সম্ভব হবে।

সংবাদ অনুসন্ধান ক্যালেন্ডার

MonTueWedThuFriSatSun
1234567
15161718192021
22232425262728
293031    
       
22232425262728
2930     
       
  12345
2728     
       
28      
       
       
       
1234567
2930     
       

আমাদের ফেইসবুক পেইজ