নেপালের দুুর্যোগগ্রস্ত এলাকা পুনর্গঠনে লাগবে ৫০০ কোটি ডলার
অনলাইন ডেস্ক
নেপালে চলতি সপ্তাহের বিধ্বংসী আকস্মিক বন্যার পর অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং সার্বিক পুনর্বাসন কার্যক্রমে অন্তত ৫০০ কোটি (৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার খরচ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির একমাত্র ধনকুবের ও শিল্পপতি বিনোদ চৌধুরী। ব্লুমবার্গ টিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হাসলিন্ডা আমিনকে তিনি জানান, শেষ পর্যন্ত পুনর্নির্মাণ ব্যয় যদি এই পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছে, তবে এতে তিনি মোটেই অবাক হবেন না। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এটি কেবল বিপুল অর্থ খরচের বিষয় নয় বরং নেপালের দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং অবকাঠামো পুনরায় তৈরি করতে যে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে, তা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।
নেপালের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী ‘চৌধুরী গ্রুপ’-এর চেয়ারম্যান বিনোদ চৌধুরী আরও জানান, খাদ্য, টেলিকম, অবকাঠামো এবং ব্যাংকিংসহ মোট ১২টি ভিন্ন খাতে বিস্তৃত তাদের এই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানটি বর্তমান সংকটকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। পুর্নবাসন প্রক্রিয়া সফল করা এবং দেশের থমকে যাওয়া অর্থনীতিকে পুনরায় সচল করাকে তিনি এই মুহূর্তে তাদের সামনে থাকা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে অভিহিত করেন।
গত ২৬শে আগস্ট চীনের সীমান্তবর্তী নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে এই মারাত্মক আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। মুহূর্তের মধ্যে পাহাড়ি ঢল ও প্লাবন বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত করে এবং রাস্তাঘাট ও সেতু ভাসিয়ে নিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ পর্যন্ত অন্তত ৪৬৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং শতাধিক বিদেশি পর্যটকসহ প্রায় ১২শ’ জন মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণেই এই ভয়াবহ দুর্যোগের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বিনোদ চৌধুরী বলেন, দুর্যোগের কারণে তারা সারাদেশে এক চরম বিপর্যস্ত পরিবেশ ও পূর্ণাঙ্গ স্থবিরতা দেখতে পাচ্ছেন। আকস্মিক বন্যায় পাহাড়ি অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি বিদ্যুত কেন্দ্রগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ত্রাণ ও পুনর্বাসনে তাদের গৃহীত পদক্ষেপের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, চৌধুরী গ্রুপ বর্তমানে সরকার, স্থানীয় অংশীদার এবং নেপালি সেনাবাহিনীর সাথে সরাসরি সমন্বয় করে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ও গৃহহীন মানুষের জন্য অস্থায়ী পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ে তুলতে নিজেদের কর্মীদের ইতিমধ্যেই নিয়োজিত করা হয়েছে। প্রাথমিক জরুরি সহায়তার পর চৌধুরী গ্রুপ নতুন বাড়ি নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলগুলো পুনরায় চালু করতে কাজ করবে।
শিল্পপতি চৌধুরী আরও জানান, এবারের ভয়াবহ বিপর্যয় মোকাবিলায় তাদের গোষ্ঠী যে পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ ব্যয় করতে যাচ্ছে, তা ২০১৫ সালের প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পের সময় করা খরচের তুলনায় অনেক বেশি হবে। ২০১৫ সালের সেই ভয়াবহ ভূমিকম্পের পরেও চৌধুরী গ্রুপ দেশজুড়ে অনুরূপ পুনর্নির্মাণ ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল।
সূত্র: এনডিটিভি
বিডি প্রতিদিন/