ছবি: সিলেট ভিউ গ্রাফিক্স ও এআই।
রেহানার জন্য খু ন হন শাহাব
নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটে ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিন হত্যার রহস্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, জালাল যে রেস্টুরেন্টে কাজ করতো সেই সেখানে রেহানা পারভিন নামে আরেক কর্মচারী ছিলেন। প্রায় ৭ বছর আগে রেহানার স্বামী মারা যান। এরপর থেকে জালালের সাথে রেহানার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাঝে মধ্যে তাদের শারীরিক সম্পর্কও হতো। রেহানাকে বিয়ে করার কথা ছিল জালালের। রেহানা মাঝে মধ্যে রেস্টুরেন্টের পার্শ্ববর্তী শাহাব উদ্দিনের দোকানে যেত। এসময় শাহাব উদ্দিনের সাথে কথা বলতো। বিষয়টি ভালভাবে নেয়নি জালাল। গেল ৩/৪ মাস ধরে রেহানার সাথে তার মনমালিন্য হচ্ছিল। রেহানা বিয়েতে অসম্মতি জানাচ্ছিল। এতে শাহাব উদ্দিন ও রেহানার সম্পর্ক নিয়ে জালালের সন্দেহ আরও গাঢ় হয়। এনিয়ে শাহাব উদ্দিনের সাথে তার কয়েকবার কথাকাটাকাটি হয়। শাহাব উদ্দিন তাকে গালমন্দ করেন। এতে জালাল ক্ষুব্ধ হয়ে শাহাব উদ্দিনকে দেখে নেওয়ার পরিকল্পনা আঁটে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার শামীম মুর্শেদ। তিনি জানান, আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে জালাল জানায় তার প্রেমিকা রেহানা পারভিনের সঙ্গে ব্যবসায়ী শাহাব উদ্দিনের সম্পর্ক রয়েছে-এমন সন্দেহ থেকেই ক্ষোভের বশে তিনি শাহাবকে হত্যা করেন।
নিহত শাহাব উদ্দিনের বয়স ৬৫ বছর। তিনি সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং ওই এলাকায় ব্যবসা করতেন। তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পাশের সাইফ এন্ড খুশি রেস্টুরেন্টে বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন অভিযুক্ত জালাল উদ্দিন। তাঁর বাড়ি সুনামগঞ্জে।
পুলিশ জানায়, জালাল যে রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন, সেখানে রেহানা পারভিন নামের এক নারীও কর্মরত ছিলেন। প্রায় সাত বছর আগে রেহানার স্বামী মারা যাওয়ার পর জালালের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে রেহানাকে বিয়ে করার পরিকল্পনাও করেন জালাল। তবে গত তিন-চার মাস ধরে তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। রেহানা বিয়েতে আগ্রহী না হওয়ায় জালালের সন্দেহ আরও বাড়তে থাকে।
রেহানা মাঝে মধ্যে রেস্টুরেন্টের পাশের শাহাব উদ্দিনের দোকানে যেতেন এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলতেন। বিষয়টি ভালোভাবে নেননি জালাল। শাহাব উদ্দিন ও রেহানার মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে-এমন সন্দেহ থেকে শাহাবের সঙ্গে জালালের কয়েকবার কথাকাটাকাটিও হয়। এসব ঘটনায় শাহাব তাকে গালমন্দ করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছে জালাল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাহাবকে হত্যার পরিকল্পনা করে সে।
এসএমপি কমিশনার জানান, গত ২৩ আগস্ট রাতে দোকান বন্ধ করে বাসায় ফিরছিলেন শাহাব উদ্দিন। এ সময় জালাল গোপনে তাঁর পিছু নেয়। বাসার কাছাকাছি একটি নির্জন স্থানে পৌঁছালে জালাল সঙ্গে থাকা প্রায় ২৪ ইঞ্চি লম্বা রামদা দিয়ে শাহাবের মাথায় আঘাত করে। পরে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে গলায় আরও একটি কোপ দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় শাহাবকে ফেলে রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরে যায় জালাল।
কমিশনার সারোয়ার শামীম মুর্শেদ জানান, পালিয়ে যাওয়ার সময় কিছুদূর গিয়ে জালাল প্রথমে তার পরনের রেইনকোটটি ফেলে দেয়। এরপর আরও কিছুদূর গিয়ে পায়ের স্যান্ডেল এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রামদাটিও ছুড়ে ফেলে। পরে ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা এবং ফেলে যাওয়া রেইনকোট ও স্যান্ডেলের সূত্র ধরে জালালকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় কৌশলে জালাল উদ্দিনকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার পর তাকে আদালতে হাজির করা হলে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
সিলেটভিউ২৪ডটকম