সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন, তিন ধাপে বাস্তবায়ন
অনলাইন ডেস্ক
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা যুগোপযোগী করতে নতুন জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন কাঠামোয় বিদ্যমান ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
সোমবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ এবং সংশ্লিষ্ট যৌথবাহিনী নির্দেশাবলি ২০২৬ অনুমোদন করা হয়। নতুন বেতন স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এবং সংশ্লিষ্ট বেতন কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর সচিব কমিটি সুপারিশ প্রণয়ন করে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে দেশের আর্থিক সক্ষমতা, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান এবং যৌক্তিক বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতনস্কেল অনুমোদন করা হয়েছে।
নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাতও কিছুটা কমানো হয়েছে। বর্তমানে এ অনুপাত ১:৯.৯৪ থেকে কমিয়ে ১:৭.৮ করা হয়েছে। ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
তিন ধাপে বাস্তবায়ন
অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ বিবেচনায় নিয়ে সরকার একসঙ্গে পুরো বেতনস্কেল বাস্তবায়ন না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭ সালের মধ্যে মূল বেতন মোট তিন ধাপে কার্যকর হবে। তবে ভাতাসমূহ ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সরকার বেতনস্কেল বাস্তবায়নে স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।
নতুন বেতনস্কেলের আওতায় প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক সরকারি কর্মচারী এবং প্রায় ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক আর্থিক ব্যয়ের পরিমাণ আনুমানিক ১ লাখ ৭ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা হবে।
পেনশনেও পরিবর্তন
নতুন বেতনস্কেলে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সরকার ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বা One Rank One Pension (OROP) ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে সামরিক ও অসামরিক উভয় ক্ষেত্রে এটি একসঙ্গে বাস্তবায়নের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় আপাতত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে বয়স্ক পেনশনভোগীদের জীবনযাত্রার মান ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্ল্যাবভিত্তিক নিট পেনশনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। মাসিক ৯ হাজার টাকা বা তদূর্ধ্ব নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিট পেনশন ১০০ শতাংশ, ৯ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকা বা তদূর্ধ্ব নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ফলে যারা দীর্ঘদিন আগে অবসরে গেছেন এবং তুলনামূলক কম নিট পেনশন পাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হবে।
সব গ্রেডে মোবাইল ভাতা
সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদা পূরণে প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যয়ের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানো হয়েছে। এতদিন শুধু পঞ্চম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ভাতা প্রযোজ্য থাকলেও নতুন বেতনস্কেলে সব গ্রেডের কর্মচারী মোবাইল ভাতা পাবেন।
সরকারের হিসাবে, নতুন বেতনস্কেল সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্যম বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দিতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে একই সঙ্গে সরকারি ব্যয়ের ওপর চাপও নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
বিডি-প্রতিদিন