• সিলেট, দুপুর ১২:০১, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

এখনো ইলিয়াস আলী ফেরার অপেক্ষায় পরিবার

admin
প্রকাশিত আগস্ট ৩১, ২০২৬
এখনো ইলিয়াস আলী ফেরার অপেক্ষায় পরিবার

Manual3 Ad Code

এখনো ইলিয়াস আলী ফেরার অপেক্ষায় পরিবার

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল। ঢাকার বনানী থেকে গুম হন বিএনপির তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এম ইলিয়াস আলী। পরদিন ছিল তাঁর বড় ছেলে আবরার ইলিয়াসের এইচএসসি পরীক্ষা। বাবা নিখোঁজ হওয়ার সময়ের সেই কিশোর আজ ব্যারিস্টার। পেরিয়ে গেছে ১৪ বছর। কিন্তু শেষ হয়নি বাবার ফেরার অপেক্ষা। ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, ছেলে আবরার, লাবিব শারার ও মেয়ে সায়ারা নাওয়াল এখনো অপেক্ষায়-একদিন হয়তো ফিরে আসবেন তিনি।

 

ইলিয়াস আলীর স্ত্রী লুনা স্বামীর আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি স্বামীর অবস্থান ও পরিণতি জানতে চেয়েছেন। তবে দীর্ঘ সময়েও এ বিষয়ে পরিবারের কাছে আসেনি কোনো সুস্পষ্ট উত্তর। ইলিয়াস আলী গুমের মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তদন্তাধীন। গুমের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে শেখ হাসিনা সরকারের আমলের প্রভাবশালী দুই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, গুমের পর ইলিয়াস আলীকে হত্যা করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে পরিবার সেই তথ্য মানতে নারাজ। তাদের বিশ্বাস, ইলিয়াস এখনো বেঁচে আছেন এবং একদিন ফিরে আসবেন।

 

জানতে চাইলে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, ‘এম ইলিয়াস আলীর খোঁজ জানতে চাই। তাঁকে যারা গুম করেছেন জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তিনি জানান, গুম বা ‘এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ বন্ধ, অতীতের গুমের ঘটনা তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদে ইতোমধ্যে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপিত হয়েছে, যা এখন পাসের অপেক্ষায় রয়েছে।’

 

 

বাবা নিখোঁজ হওয়ার রাতের কথা স্মরণ করে ব্যারিস্টার আবরার ইলিয়াস বলেন, ‘পরিবার হিসেবে আমরা তখন বুঝতে পারিনি যে এটি আসলে একটি গুম বা জোরপূর্বক নিখোঁজ করার ঘটনা। আমার এইচএসসি পরীক্ষার ঠিক আগের রাতে ঘটনাটি ঘটে। আমরা ভেবেছিলাম, এটি হয়তো সাময়িক কোনো বিষয়। এমনকি শেখ হাসিনাও আমাদের অপেক্ষা করতে বলেছিলেন। বলেছিলেন, পরিস্থিতি কেটে যাবে, আমাদের দুঃখও দূর হবে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। আমরা আজও তাঁর ফিরে আসার অপেক্ষায় আছি।’

 

Manual1 Ad Code

ইলিয়াস আলীর সঙ্গে তাঁর গাড়িচালক আনসার আলীকেও গুম করা হয়। আবরার বলেন, ‘আমাদের গাড়িচালকও গুম হয়েছিলেন। তাঁর পরিবারকে কীভাবে সান্ত্বনা দেব, তখনো জানতাম না, এখনো জানি না। তিনি শুধু একজন চাকরিজীবী ছিলেন; কোনোভাবেই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।’

গুমের সময় ইলিয়াসের মেয়ে সায়ারা নাওয়ালের বয়স ছিল ১০ বছর। আনসার আলীর মেয়ের বয়স ছিল এক বছরেরও কম। আবরারের ভাষায়, ‘মাত্র ১০ বছর বয়সি ছোট বোনকে পরিস্থিতি বোঝানো অত্যন্ত কঠিন ছিল। আর আমাদের গাড়িচালকের এক বছরেরও কম বয়সি মেয়েটিকে দেখলেই আজও আমি স্তব্ধ হয়ে যাই।’

 

 

মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে আবরার বলেন, ‘প্রতিটি ভুক্তভোগী পরিবারের সত্য জানার অধিকার রয়েছে। ভুক্তভোগীদের ভাগ্যে কী ঘটেছিল, সেই সত্য অবশ্যই উন্মোচিত হতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হলেও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর বা সাক্ষ্য পাওয়া যায়নি।’

 

Manual6 Ad Code

 

দীর্ঘ ১৪ বছরেও অপেক্ষার অবসান হয়নি। আবরার বলেন, ‘তাঁকে জোরপূর্বক গুম করা হয়েছিল। তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে আমরা এখনো কিছুই জানতে পারিনি। বিষয়টি সবার কাছেই এখনো এক রহস্য।’

 

 

Manual4 Ad Code

সিলেটভিউ২৪ডটকম

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com