একুশের গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরীর জন্মদিন আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক
‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ অমর একুশের গানের রচয়িতা, প্রখ্যাত সাহিত্যিক-সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরীর জন্মদিন আজ।
১৯৩৪ সালের ১২ ডিসেম্বর বরিশাল জেলার এক জলবেষ্টিত গ্রাম উলানিয়ার চৌধুরী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা হাজি ওয়াহিদ রেজা চৌধুরী ও মা মোসাম্মৎ জহুরা খাতুন। তিন ভাই, পাঁচ বোনের মধ্যে বড় ভাই হোসেন রেজা চৌধুরী ও ছোট ভাই আলী রেজা চৌধুরী। বোনেরা হলেন মানিক বিবি, লাইলী খাতুন, সালেহা খাতুন, ফজিলা বেগম ও মাসুমা বেগম।
স্থানীয় মাদ্রাসায় এবং হাইস্কুলে পড়াশোনা শেষ করে আবদুল গাফফার চৌধুরী ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা কলেজে, পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। উনিশশো পঞ্চাশের দশকের ঢাকায় তার কর্মজীবন শুরু হয় দৈনিক ইনসাফে। এরপর একে একে কাজ করেছেন দৈনিক সংবাদ, মিল্লাত, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক আজাদ, দৈনিক পূর্বদেশসহ বিভিন্ন পত্রিকায়। তিনি মূলত নাম করেছিলেন রাজনৈতিক কলাম লেখক হিসেবে।
১৯৭১ সালে কলকাতা থেকে মুজিবনগর সরকারের মুখপত্র সাপ্তাহিক ‘জয়বাংলা’য় লেখালেখি করেন। এ সময় তিনি কলকাতায় দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা ও যুগান্তরে কলামিস্ট হিসেবে কাজ করেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে ‘দৈনিক জনপদ’ বের করেন।
১৯৭৪ সালের অক্টোবর মাসে লন্ডনের উদ্দেশে পাড়ি জমান। এরপর শুরু হয় তার প্রবাস জীবন। প্রবাসী হয়েও এখনও তিনি বাংলাদেশের প্রধান পত্রিকাগুলোতে নিয়মিত লিখে গেছেন সমসাময়িক রাজনৈতিক ঘটনাবলি নিয়ে।
আবদুল গাফফার চৌধুরী ১৯৬৩ সালে ইউনেস্কো পুরস্কার পান। এ ছাড়াও তিনি বাংলা একাডেমি পদক, একুশে পদক, শেরেবাংলা পদক, বঙ্গবন্ধু পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস, স্মৃতিকথা, ছোটদের উপন্যাসও লিখেছেন তিনি। ‘চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান’, ‘সম্রাটের ছবি’, ‘ধীরে বহে বুড়িগঙ্গা’, ‘বাঙালি না বাংলাদেশি’সহ তার প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা প্রায় ৩০। এছাড়া তিনি কয়েকটি পূর্ণাঙ্গ নাটক লিখেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ‘একজন তাহমিনা’ ‘রক্তাক্ত আগস্ট’ ও ‘পলাশী থেকে বাংলাদেশ’।
২০২২ সালের ১৯ মে লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বরেণ্য এই ব্যক্তিত্ব।