জৈন্তাপুরে পাহাড় কা*টা*র মহোৎসব !হা হা বেশ বেশ ! জেলা প্রশাসকের সু-দৃষ্ঠি কামনা !
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি
সিলেটের জৈন্তাপুরে কোনোভাবেই থামছে না পাহাড় ও টিলা কাটার মহোৎসব। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে প্রাণহানিরঘটনা ঘটলেওথামানো যাচ্ছে না পাহাড় কাটা। নিয়ম-নীতিরতোয়াক্কা না করে ৫/৬ জনের সংঘবদ্ধচক্র বেপরোয়াভাবে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় পাহাড় কেটে ধ্বংস করছে।দিন-রাত সমান তালে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের রহস্যজনক নীরবতার কারণেই ফতেপুর ইউনিয়নে এই ধ্বংসযজ্ঞ বেপরোয়া আকার ধারণ করেছে।
সম্প্রতি উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নে প্রকাশ্যে এসব পাহাড় কাটার মহোৎসব চালিয়ে গেলেও উপজেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের রহস্যজনক নীরব ভ‚মিকায় জনসাধারণ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড় কাটারোধে প্রশাসনকে অবগত করলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি আজও, ফলে দিন দিন টিলা ও পাহাড় কাটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। নির্বিচারে পাহাড় কাটার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরাও।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের শিকারখাঁ মাঝেরঠুল গ্রামে মৃত আবুল হাসনাত (মুহুরী) ছেলে মো. হাবিবুর রহমান হাবিব, একই এলাকার মুছিম আলীর ছেলে ইন্তাজ আলী, উৎলারপার এলাকার ইমাম রাজার ছেলে বাবুল আহমদের মালিকানাধিন টিলাসহ বাগেরখাল এলাকায় বেশ কয়েকটি টিলা কাটা হচ্ছে বিরতিহীন ভাবে। তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় অপরাধিরা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিদিন ২০/২৫টি ডাম্পার ট্রাকযোগে টিলার মাটিগুলো অন্যত্র জমি ভরাটের জন্য নিয়ে যাওয়ার ফলে গ্রামের রাস্তাগুলো জনসাধারণের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এসব টিলা ধংস করার ফলে পরিবেশের বিপর্যয় আশঙ্কা করছেন টিলার আশেপাশে বসবাসরত পরিবারগুলো।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম বলেন, পাহাড় কাটা বাংলাদেশ পরিবেশ আইনের সুস্পষ্ট লঙ্গন। আমরা উন্নয়ন চাই, কিন্তু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ নষ্ট করে উন্নয়ন চাই না। প্রশাসনের উদাসিনতায় এভাবে পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলে আমরা আমাদের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র হারাবো। প্রশাসন পাহাড়ের মালিকের উপর মামলা করে আইনের আওতায় এনে সঠিক বিচার করতে হবে।
তিনি বলেন, আমি প্রায় সময় সিলেটে পাহাড় টিলা কাটা নিয়ে পত্রিকায় প্রতিবেদন পাই। প্রশাসন এই সকল প্রতিবেদন দেখেও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় সিলেটে অনেক আংশেই পাহাড় টিলা কমে গেছে। এভাবে পাহাড় টিলা কাটতে থাকলে দেশে ভূকম্পন আরো বাড়তে পারে।
এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলি রাণী দেব বলেন, আমি যোগদান করার পর দুটি অভিযান পরিচালনা করেছি। ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে না পেয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের নিকট আমরা একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। এখান থেকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন আসার পর টিলার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।