সিলেটে জব্দ সাদাপাথর লুট, ক্রাশার মিল ধ্বং স
নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর লুটপাটের পর জব্দ করে প্রশাসন। জব্দ করা এই পাথর আবারও লুটপাট করছে দুষ্কৃতকারীরা।
এ নিয়ে ৩১ ডিসেম্বর সাদাপাথর চুরির ঘটনা নিয়ে স্থানীয় কিছু সংবাদ পত্রে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর শুক্রবার সকালে টাস্কফোর্সের অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় সাদাপাথর ভাঙ্গার দায়ে ১টি ক্রাশার মিল ধ্বংস করা হয়।
তবে জব্দ সাদাপাথর লুটপাটের মূল হোতা মইন উদ্দিন মিলন সিন্ডিকেট এখনো অধরা।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কলাবাড়ি গ্রামের মইন উদ্দিন মিলনের নেতৃত্বে চলছে জব্দ করা এই সাদাপাথর লুটপাট।
এছাড়াও প্রতিদিন ধলাই সেতুর নিচ থেকে এই সিন্ডিকেট প্রায় অর্ধশতাধিক ট্রাক্টরে বালু পরিবহন করছে। এসব পাথর নদীর পূর্ব পাড়ে ক্রাশার মিলে রাখা হয়। পরে এগুলো ক্রাশিং করে বিক্রি করা হয়। আর বালু ট্রাকে বুঝাই করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠান মিলন নিজেই।
ইতোমধ্যে মইন উদ্দিন মিলনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায় মিলনের সাদাপাথর পুলিশ জব্দ করার পর তিনি লাইভ দিচ্ছেন আর বলছেন, সব পাথর পুলিশ নিয়ে এসেছে একটাও রেখে আসেনি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধলাই নদীর পশ্চিম পাড়ে প্রশাসনের জব্দ করা সাদাপাথর নৌকা দিয়ে চুরি করে দয়ার বাজার এলাকার নদীর তীরে নিয়ে রাখা হচ্ছে। সেখান থেকে ট্রাক্টরে করে কলাবাড়ির বিভিন্ন ক্রাশার মিলে বিক্রি করেন মইন উদ্দিন মিলনের সিন্ডিকেট।
গত বছরের আগস্ট মাসে সাদাপাথর লুটপাটের পর অনেকেই আইনের আওতায় আসলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন মইন উদ্দিন মিলন। কোন এক অজানা কারণে তিনি আইনের আওতায় আসছেন না। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এদিকে জাতীয় সম্পদ ধলাই সেতু হুমকিতে ফেলে প্রতিনিয়ত সেতুর পিলারের নিচ থেকে নৌকা দিয়ে বালু উত্তোলন করাচ্ছেন মইন উদ্দিন মিলন। সেই বালু নদীর পূর্ব পাড়ে কলাবাড়ি এলাকায় নিয়ে রাখেন। পরে সেখান থেকে ট্রাকের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠান তিনি।
সাদাপাথর ও বালু লুটপাটের বিষয়ে অভিযুক্ত মইন উদ্দিন মিলন বলেন পাথরের এই ভিডিও আমার আগের। জব্দ সাদাপাথর লুটপাট ও ধলাই সেতুর নিচ থেকে কেন বালু উত্তোলন করাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম খান জানান অবৈধ বালু পাথর চুরির সাথে সম্পৃক্ত যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া জানান যার ক্রাশার মিলে অবৈধ পাথর পাওয়া যাবে তার মিলেই অভিযান পরিচালিত হবে। তাছাড়া যারাই এর সাথে জড়িত থাকবে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম