কে পড়াবেন এমপিদের শপথ
অনলাইন ডেস্ক
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সাবেক স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শপথ পড়ানোর সুযোগ নেই। তাই প্রধান উপদেষ্টার পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি থেকে মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ পড়াবেন। না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনের তিন দিন পর শপথ পাঠ করাতে পারবেন। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন আইন উপদেষ্টা। দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আসন্ন সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের কে শপথ পড়াবেন এ নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, আমাদের সামনে দুটি অপশন আছে। রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ পড়াতে পারবেন। উদাহরণ হিসেবে হয়তো আমাদের প্রধান বিচারপতি হতে পারেন। এটা যদি না হয়, তাহলে আমাদের যিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার আছেন, তিনিই শপথ পড়াবেন। সে ক্ষেত্রে একটা সমস্যা আছে, তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা অপেক্ষা করতে চাই না, আমরা নির্বাচন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। গণ অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন। তার আগে আগস্ট মাসে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেপ্তার হন। এ অবস্থায় নতুন সংসদ সদস্যদের কে শপথ পড়াবেন এমন প্রশ্নে সাংবাদিকদের ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী নতুন যারা সংসদ সদস্য হবেন তাদের শপথ পাঠ করানোর কথা স্পিকারের। স্পিকার না থাকলে ডেপুটি স্পিকারের। তারা না থাকলে অন্য বিধানও আছে। এখন আমাদের এখানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের মধ্যে একজন নিখোঁজ, আরেকজন জেলে আছেন। ফলে এই অবস্থায় তাদের দ্বারা শপথ পাঠ করানোর সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, এখন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বিষয়টি সরকারের নীতিগত পর্যায়ের সিদ্ধান্ত। এখনই চূড়ান্ত কিছু বলতে পারব না। তবে আমাদের সামনে দুটি অপশন আছে। বিষয়টি নিয়ে সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবের সঙ্গে আলোচনা করে প্রধান উপদেষ্টাকে অভিমত জানানো হবে বলেও যোগ করেন ড. আসিফ নজরুল।
বিডি প্রতিদিন