‘হবিগঞ্জের নদ-নদী রক্ষার দাবী’
নিজস্ব প্রতিবেদক
হবিগঞ্জের ৯টি উপজেলায় ছড়িয়ে আছে নদ-নদীসমূহ। কিন্তু এমন কোনো একটি নদী হবিগঞ্জে নেই যেটি দখল বা দূষণের শিকারে পরিণত হয়নি। অথচ নদী আমাদের প্রাণ, প্রকৃতি ও সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ নদীসমূহ এতদঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও পরিবেশের জন্য আবশ্যক।
২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবসে খোয়াই ও সুতাং নদীসহ হবিগঞ্জের সকল নদ-নদী দখল দূষনের কবল থেকে রক্ষার দাবী জানিয়েছে খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) হবিগঞ্জ শাখা।
আগামী ১৪ মার্চ আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে খোয়াইমূখ নৌকা ঘাটে অনুষ্ঠিত নাগরিক অবস্থানে বক্তারা এ দাবী জানান।
উল্লেখ্য, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও নদীর প্রতি মানুষের করণীয় কী, নদী রক্ষায় দায়িত্ব, মানুষের দায়বদ্ধতা কতটুকু; এসব বিষয় স্মরণ করিয়ে দিতে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
ধরা হবিগঞ্জের উপদেষ্টামন্ডলীর সভাপতি অধ্যাপক মো. ইকরামুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত নাগরিক অবস্থান কর্মসূচীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধরার কেন্দ্রীয় সংগঠক ও মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- ধরা হবিগঞ্জের উপদেষ্টা, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এডভোকেট মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল, মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মোমিন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব শাহরিয়ার কোরেশী, ধরা হবিগঞ্জের নির্বাহী সদস্য ও লাখাই প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. বাহার উদ্দিন, গাছ মামাখ্যাত মো. রায়হান, হাওর রক্ষায় আমরার সদস্য মহিউদ্দিন আহমেদ রিপন, পরিবেশকর্মী নূরজাহান বিভা, মো: সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, হবিগঞ্জের নদীসমূহ দখলমুক্ত করে খনন করে স্বাভাবিক গতি ও নাব্যতা ফিরিয়ে না আনলে কেবল খাল খনন কর্মসূচী পানি ব্যবস্থাপনায় পুরোপুরি সফলতা আনবে না। হবিগঞ্জের পরিবেশ অনেকাংশে নদনদী সমূহের উপর নির্ভরশীল। নদীর বিনাশ মানে পরিবেশের বিনাশ।
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রের টাকায় ২০১৪ সালে শৈলজুড়া খাল পুন:খনন করে সেই খাল দিয়ে কলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য সুতাং নদীতে ফেলা হচ্ছে। ফলে এতদঞ্চলের প্রকৃতি, নদী, জলাশয়, কৃষিজমি ধ্বংস করে পরিবেশ ও মানবিক সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। এভাবে শিল্পবর্জ্য নদী খাল বিল হয়ে হাওরে পতিত হচ্ছে। হবিগঞ্জের হাওরের ও নদ-নদীর মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ।
খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল বলেন, জেলার মাধবপুর, শায়েস্তাগঞ্জ, হবিগঞ্জ, লাখাই উপজেলাসহ অন্যান্য স্থানে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা কল- কারখানাগুলো শুরু থেকেই বেপরোয়াভাবে দূষণ চালাচ্ছে। ভয়াবহ দূষণের কারণে প্রাণ- প্রকৃতি ও মানুষকে চরম পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। কৃষিজমি, খাল, ছড়া এবং নদীসহ সকল প্রকার জীবন ও জীবিকা শিল্পদূষণের শিকার হয়েছে। যা মানুষের সাংবিধানিক অধিকারের উপর প্রত্যক্ষ আঘাত।
হবিগঞ্জের খোয়াই, পুরোনো খোয়াই, সুতাংসহ অন্যান্য নদনদী ও পরিবেশ রক্ষায় তিনি রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দাবি জানান।
তিনি বলেন, নদী জীবন্ত সত্তা। উচ্চ আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে নির্মোহ সীমানা চিহ্নিত করে দৃশ্যমান সকল বেআইনি দখলদারদের স্থাপিত সকল অবকাঠামো দখলি অবস্থান অবিলম্বে
ব্যতিক্রমহীন ভাবে অপসারণ করে পুরাতন খোয়াই নদী দখলমুক্ত করতে হবে।