ছাতকে ঝুলনযাত্রা উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শুরু

প্রকাশিত: ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১, ২০২০

ছাতকে ঝুলনযাত্রা উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শুরু

ছাতক প্রতিনিধিঃ
ছাতকে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে ঝুলন যাত্রা। ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মনিপুরী সম্প্রদায় তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির ধারা এবং নিয়ম নীতি অনুসারে প্রতি বছর পালন করে আসছে এ ধর্মানুষ্ঠান। মূলত মণিপুরী সহ হিন্দুধর্মাবলম্বীরা এই ঝুলনযাত্রা শ্রাবণ মাসের প্রতিপদ তিথি থেকে আরম্ভ হয়ে পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত পাঁচ-দিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠানটি উদযাপন করে থাকে।

রাখি পূর্ণিমার মাধ্যমে ঝুলন যাত্রার সমাপ্তি ঘটে। মথুরা-বৃন্দাবনের মতোই বাংলার ঝুলন উৎসবের ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। এটি দোল পূর্ণিমার পরবর্তী বৈষ্ণবদের আরেকটি বড় উৎসব। শাস্ত্রমতে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর ভক্ত অভক্ত নির্বিশেষে সকলকে অনুগ্রহ করবার জন্য গোলকধাম থেকে ভূলোকে এসে লীলা করেন। ঝুলন শব্দেরটির সঙ্গে ‘দোলনা’ শব্দটি রয়েছে।

তাই এই সময় ভক্তরা রাধাকৃষ্ণকে দোলনাতে বসিয়ে পূজো করেন। শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, বৃন্দাবনে রাধা-কৃষ্ণর প্রেমলীলাকে কেন্দ্র করে দ্বাপরযুগে এই ঝুলন উৎসবের সূচনা হয়েছিল। এক এক অঞ্চলে দোল বা দুর্গোৎসবের মতো ঝুলন উৎসবের আকর্ষণ কিছু মাত্র কম নয়।

ঝুলনেও দেখা যায় নানা আচার অনুষ্ঠান ও সাবেক প্রথা। শুধুমাত্র রাধাকৃষ্ণের যুগলবিগ্রহ দোলনায় স্থাপন করে হরেক আচার অনুষ্ঠান উৎসব নয়, সঙ্গে জড়িয়ে আছে সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক তাৎপর্য। শ্রাবণের শুক্লা একাদশী থেকে পূর্ণিমা পর্যন্ত চলে এই উৎসব। এই উৎসব হয় মূলত বনেদিবাড়ি এবং মঠ-মন্দিরে। তবে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ছোঙর দোলনা আর গাছপালা দিয়ে ঝুলন সাজানোর আকর্ষণ ছোটদের মধ্যেও রয়েছে। কোথাও কোথাও ঝুলন উপলক্ষে নামসংকীর্তন করা হয়ে থাকে।