আল্লাহর একাত্মবাদে বিশ্বাসী হতে হবে
মুফতি মুহাম্মদ আল আমিন
ইমানের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর একাত্মবাদ। হাদিসের ভাষায় একে তাওহিদ বলে। একাত্মবাদে যার বিশ্বাস যত মজবুত তার ইমান তত দৃঢ়। সে তত বেশি শিরক থেকে মুক্ত। নেক আমল কবুল হতে হলে অবশ্যই শিরকমুক্ত জীবন গঠন করতে হবে। আল্লাহর একাত্মবাদে পরিপূর্ণ বিশ্বাস রাখতে হবে। আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করা যাবে না। তিনি ছাড়া কাউকে নিজের ভাগ্যের মালিক মনে করা যাবে না। উন্নতি-অবনতির মালিক মনে করা যাবে না। ভালো-মন্দের মালিক মনে করা যাবে না। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সম্মান দেন। রাজত্ব দেন। ইজ্জত দেন। চাইলে তা কেড়েও নিতে পারেন। সার্বভৌমত্বের মালিক একমাত্র আল্লাহ। পবিত্র কোরআনে এ বিষয়টি বহুবার উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে, ‘বলুন, হে সার্বভৌম শক্তির মালিক আল্লাহ! তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান করো এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য কেড়ে নাও। যাকে ইচ্ছা তুমি সম্মান দান করো আর যাকে ইচ্ছা অপমানিত করো। যাবতীয় কল্যাণ তোমারই হাতে। নিশ্চয় তুমি সব বিষয়ে ক্ষমতাশীল। তুমি রাতকে দিনের ভিতরে এবং দিনকে রাতের ভিতরে প্রবেশ করাও। তুমিই মৃত থেকে জীবিতের আবির্ভাব ঘটাও, আবার জীবিত থেকে মৃতের আবির্ভাব ঘটাও। আর তুমি যাকে ইচ্ছা সীমাহীন জীবিকা দান করো।’ (সুরা আলে ইমরান : আয়াত-২৬, ২৭)। মহান আল্লাহ সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী। তিনি সব মানুষকে এজন্য সৃষ্টি করেছেন যে, মানুষ কত সুন্দর করে ইবাদত করে-এটা তিনি দেখতে চান। এ বিষয়ে ঘোষিত হচ্ছে, ‘বরকতময় তিনি যাঁর হাতে সর্বময় কর্তৃত্ব। আর তিনি সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান। যিনি মৃত্যু-জীবন সৃষ্টি করেছেন যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন যে, কে তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে উত্তম। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, অতিশয় ক্ষমাশীল।’ (সুরা মুলক : আয়াত-১, ২)। কোরআনে আরও বর্ণিত হয়েছে, ‘আর তাঁর কাছে রয়েছে গায়েবের চাবিসমূহ, তিনি ছাড়া এ বিষয়ে কেউ জানে না এবং তিনি অবগত রয়েছেন স্থলে ও সমুদ্রে যা কিছু আছে। আর কোনো পাতা ঝরে না, কিন্তু তিনি তা জানেন এবং জমিনের অন্ধকারে কোনো দানা পড়ে না, না কোনো ভেজা এবং না কোনো শুষ্ক কিছু; কিন্তু রয়েছে সুস্পষ্ট কিতাবে।’ (সুরা আনআম : আয়াত-৫৯)।
♦ লেখক : খতিব, সমিতি বাজার মসজিদ, নাখালপাড়া, ঢাকা
বিডি প্রতিদিন