যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলকে বিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
অনলাইন ডেস্ক
গাজা উপত্যকায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইসরায়েলের কাছে ৬.৬৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) পৃথক তিনটি চুক্তির মাধ্যমে এই বিশাল অস্ত্র বিক্রির তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের অস্ত্র বিক্রির এই সবুজ সংকেতের ফলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, গাজা ও লেবানন সীমান্তে চলমান সংঘাতের মধ্যে এই বিশাল অংকের অস্ত্র সহায়তা ওই অঞ্চলে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে যুদ্ধ পরিস্থিতিকে। যদিও মার্কিন প্রশাসন বরাবরই ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে।
পেন্টাগনের দেওয়া তথ্যমতে, এই বিক্রয় প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে রয়েছে ‘এএইচ-৬৪ই অ্যাপাচে’ হেলিকপ্টার। প্রায় ৩৮০ কোটি ডলার ব্যয়ে এই হেলিকপ্টার ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ইসরায়েলকে সরবরাহ করবে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং এবং লকহিড মার্টিন। এছাড়া দ্বিতীয় চুক্তির আওতায় প্রায় ১৯৮ কোটি ডলার মূল্যের ‘জয়েন্ট লাইট ট্যাকটিক্যাল ভেহিকল’ বা আধুনিক রণযান এবং আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবে এএম জেনারেল এলএলসি। এছাড়া তৃতীয় একটি সামরিক চুক্তির মাধ্যমে আরও ৭৪ কোটি ডলারের সরঞ্জাম অনুমোদিত হয়েছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, ইসরায়েলের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় সহায়তা করবে এই অত্যাধুনিক অস্ত্র বিক্রয় প্রস্তাবগুলো। যদিও আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েলে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
এদিকে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের ইয়ালাত বন্দরে মোতায়েন করা হয়েছে একটি মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ। শুক্রবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ইয়নেট’ সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে নিশ্চিত করেছে। মিশর ও জর্ডান সীমান্তের সন্নিকটে আকাবা উপসাগরে অবস্থিত এই বন্দরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের আগমনকে ‘পূর্বপরিকল্পিত’ বলে উল্লেখ করেছে ইয়নেট। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মধ্যে চলমান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতারই একটি অংশ। তবে, এই বিষয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কাছে তাৎক্ষণিক মন্তব্য চাইলে তারা কোনো জবাব দেয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে যেমন ইরানের সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সম্পদ প্রেরণ অব্যাহত রেখেছে। সূত্র: সামা টিভি, রয়টার্স, আল-জাজিরা
বিডি প্রতিদিন