দীর্ঘ সময় ধরে সংসদ বয়কট করলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়: স্পিকার
অনলাইন ডেস্ক
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, সংসদে ওয়াক আউট করা বিরোধী দলের অধিকার, আমরা যখন বিরোধী ছিলাম, আমরাও করেছি। এটা রাজনৈতিক চর্চা। তবে দীর্ঘস্থায়ী ওয়াক আউট কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে সংসদ বয়কট করলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জনগণ তাদের অধিকার হারিয়ে ফেলবে। বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান রইলো তারা যেন কারণে অকারণে ওয়াক আউট না করেন।
শনিবার দুপুরে বরিশাল সার্কিট হাউজে চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের নেতৃবৃন্দের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় সরকারি দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা যেন বিরোধী দলকে একোমোডেট করেন। বিরোধী দলকে কাজ করার মতো তাদের সেই স্পেসটা যাতে দেয়। বিশেষ করে যেসব দল স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে একত্রে আন্দোলন করেছে তারা যেন নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখে।
স্পিকার আরো বলেন, এটা না হলে বিদেশে যারা পালিয়ে আছেন তারা দেশে ফিরে এসে দুঃশাসন কায়েম করবেন। সুতরাং নিজের দলের মেনিফেষ্ট বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জনগণের অধিকার যাতে হরণ করা না হয়, সেই জন্য সরকার ও বিরোধী দল যত্নবান থাকবেন সেই আশা প্রকাশ করছি।
গত ১৭ বছর জীবনের মূল্যবান সময় কেড়ে নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে পারেনি। আমার (স্পিকার) বাড়ি ঘিরে রেখেছিলো পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। গণতন্ত্রের চর্চা ব্যাহত হয়েছে, গণতন্ত্র না থাকার কারণে হত্যা গুম, লুট এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিদেশে পাচার হয়েছে।
‘জাতীয় জীবনে অন্ধকারের সময় ছিলো ১৭ বছর’ মন্তব্য করে স্পিকার বলেন, যেখানে নির্বাচনের নামে প্রহসন মঞ্চস্থ হয়েছে। সাধারণ মানুষের কোনো অধিকার ছিলো না। মানবাধিকার দেশ থেকে বিদায় নিয়েছে। গণতন্ত্রকে তারা ঝেটিয়ে বিদায় দিয়েছে।
তিনি বলেন, ছাত্র-অভিভাবক ও রাজনৈতিক দলসমূহের আত্মত্যাগের ফলে দেশে আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আমরা আশা করবো গণতন্ত্র আবার হারিয়ে যাবে না। কোনো দল গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠানোর চেষ্টা করবে না। আমরা আশা করবো সাধারণ মানুষের অধিকার যেন সব সময় প্রতিষ্ঠিত থাকে। গণতন্ত্র বিরাজমান থাকে। জনগণ যাতে তাদের পছন্দের সরকার বেছে নিতে পারে, এই স্বাধীনতা যেন তাদের থাকে।
দেশের মানুষ রাজনৈতিক সচেতন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা স্বৈরশাসন পছন্দ করে না। গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি চির অনুগত। তারা আগের চেয়ে অনেক সচেতন। আগামী দিনে দেশে কোনো স্বৈরশাসক প্রভাব বিস্তার করতে পারবে এ সম্ভাবনা আমি দেখতে পাচ্ছি না। চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এবাদুল হক চানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনসহ বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বিডি প্রতিদিন/