সিলেট-সুনামগঞ্জের পাথর কোয়ারি নিয়ে সরকারের নতুন উদ্যোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সিলেট ও সুনামগঞ্জের পাথর কোয়ারিগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবছে সরকার। প্রচলিত আইন ও পরিবেশ রক্ষার শর্ত মেনে সীমিত পরিসরে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) ঘোষণার বাইরে থাকা কোয়ারিগুলো চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে গবেষণার মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে ভূগর্ভস্থ কোন স্তর পর্যন্ত পাথর উত্তোলন করা যাবে। একই সঙ্গে পুরো কার্যক্রমে সরকারের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে পরিবেশগত ক্ষতির দায় সরকারকেই বহন করতে হবে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সিলেট বিভাগের সব পাথর কোয়ারিতে উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় সরকার। পরে পরিবেশবাদীদের রিটের পর উচ্চ আদালতও এসব কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সম্প্রতি বন্ধ থাকা কোয়ারিগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিবেশ সংক্রান্ত আইন-বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করে এবং ইসিএ ঘোষিত অঞ্চলগুলো বাদ দিয়ে কোথায় কোথায় সীমিত আকারে পাথর উত্তোলন করা যেতে পারে, সে বিষয়ে ঢাকায় আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি সমন্বিত জরিপ পরিচালনারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পরিবেশ ও আইনের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তবে পরিবেশবাদীদের দাবি, কাগজে-কলমে বন্ধ থাকলেও এতদিন কোয়ারিগুলো থেকে পুরোপুরি পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল না। বিভিন্ন কৌশলে পাথর লুট চলেছে। সরকারিভাবে কোয়ারি চালুর সুযোগে সনাতন পদ্ধতির আড়ালে ফের লুটপাট শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ সংগঠনের নেতা আব্দুল করিম চৌধুরী কিম বলেন, পরিবেশের ক্ষতি না করে এবং কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করেই যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যথায় অতীতের মতো অনিয়ম ও লুটপাটের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের সীমা নির্ধারণ করা জরুরি।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম বলেন, ভূগর্ভের নির্দিষ্ট স্তরের নিচে পাথর উত্তোলন করলে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। তাই গবেষণার মাধ্যমে নিরাপদ সীমা নির্ধারণ এবং পুরো প্রক্রিয়া সরকারের কঠোর তদারকির আওতায় রাখা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেট বিভাগের মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় অন্তত ১৩টি পাথর কোয়ারি রয়েছে। এর মধ্যে সিলেটের ৮টি এবং সুনামগঞ্জের একটি কোয়ারি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম