• সিলেট, রাত ২:২৫, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইসলামের দৃষ্টিতে প্রচলিত জমি বন্ধক ব্যবস্থা

admin
প্রকাশিত জুন ১১, ২০২৬
ইসলামের দৃষ্টিতে প্রচলিত জমি বন্ধক ব্যবস্থা

Manual5 Ad Code

ইসলামের দৃষ্টিতে প্রচলিত জমি বন্ধক ব্যবস্থা

Manual6 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

 

Manual1 Ad Code

ঋণ আদায়ের নিশ্চয়তাস্বরূপ কোনো জিনিস বন্ধক রাখার নিয়ম বেশ পুরনো। এতে ঋণদাতা নিশ্চিত থাকেন যে ঋণগ্রহীতা যদি কোনো কারণে তার ঋণ পরিশোধ না করে তাহলে প্রয়োজনে ঋণদাতা বন্ধক রাখা বস্তু থেকে নিজের পাওনা উসুল করে নিতে পারবেন। নিরাপদ লেনদেনে জিনিস বন্ধক রাখার নিয়মকে ইসলামও অস্বীকার করেনি।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমরা যদি প্রবাসে থাকো এবং কোনো লেখক না পাও, তাহলে বন্ধকি বন্তু হস্তগত রাখা উচিত। যদি একে অন্যকে বিশ্বাস করে, তাহলে যাকে বিশ্বাস করা হয়, তার উচিত অন্যের প্রাপ্য পরিশোধ করা এবং স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় করো! তোমরা সাক্ষ্য গোপন কোরো না। যে কেউ তা গোপন করবে, তার অন্তর পাপপূর্ণ হবে। তোমরা যা করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৮৩)।

এখন প্রশ্ন হলো, ইসলামের দৃষ্টিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে ঋণদাতার জন্য বন্ধকি বস্তু থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ আছে কি না? এ ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান হলো, বন্ধকি বস্তু থেকে বন্ধকগ্রহীতার কোনো সুবিধা গ্রহণ করা নাজায়েজ ও হারাম। এমনকি বন্ধকদাতা অনুমতি দিলেও তা জায়েজ হবে না। কারণ বন্ধকি বস্তু থেকে উপকার গ্রহণ করা সুদের অন্তর্ভুক্ত।
ফিকহে ইসলামীর পরিভাষায় এটাকে রিবাল করদ্ব (ঋণের সুদ) বলা হয়। রিবাল করদ্ব হলো, কেউ কাউকে ঋণ দিয়ে ঋণগ্রহীতা থেকে ঋণের বিনিময়ে কোনো বাড়তি উপকার গ্রহণ করা। আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যেসব ঋণে উপকার ভোগ করা হয় তা রিবা (সুদ) বলে গণ্য হবে। (ইলাউস সুনান : ১৪/৫১৩)।

মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাকের এক বর্ণনায় এসেছে, ইবনে সিরিন (রহ.) বলেন, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর কাছে এসে বললেন, এক লোক আমার কাছে একটি ঘোড়া বন্ধক রেখেছে, অতঃপর আমি তাতে আরোহণ করেছি। তখন তিনি বলেন, তুমি উক্ত ঘোড়ার ওপর যে পরিমাণ আরোহণ করেছ তা সুদ হয়েছে। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস : ১৫০৭১)।

অতএব, ঋণের বিনিময়ে জমি বন্ধক রাখার পর ঋণদাতার জন্য সেই জমি থেকে উপকৃত হওয়া জায়েজ নেই। (আহকামুল কোরআন, জাসসাস : ১/৬৪৪, বাদায়েউস সানায়ে : ৫/২১১, আল বাহরুর রায়েক : ৮/৩৩৮, ফাতাওয়ায়ে কাজিখান : ৯/৪৪৩২, মাজমাউল আনহুর : ৪/২৭৩, শরহুল মাজাল্লা, খালেদ আতাসী : ২/৪১০, ৩/১৯৬, ইমদাদুল ফাতাওয়া : ৭/ ৫৮৮, ইমদাদুল আহকাম : ৬/৯৪, ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ : ১৭/৪৩৭)

এ ক্ষেত্রে আমাদের সমাজে একটি ভুল প্রথা প্রচলিত আছে, তা হলো জমি বন্ধক রেখে টাকা গ্রহণের পর বন্ধকগ্রহীতা জমি ভোগ করে এবং তা হালাল করার জন্য জমির মালিককে সামান্য কিছু টাকা ফিরিয়ে দিয়ে সেটাকে জমির ভাড়া হিসেবে উপস্থাপন করে। বাস্তবে এটি এক ধরনের প্রতারণা। কেননা যে অর্থ ফেরত দেওয়া হয়, তা সাধারণত জমির প্রকৃত ও প্রচলিত ভাড়ার সমপরিমাণ হয় না। ফলে নামমাত্র কিছু অর্থ প্রদান করে জমি ভোগ করাকে বৈধ ভাড়া বলা যায় না। বরং ঋণের বিনিময়ে সুবিধা গ্রহণের কারণে তা সুদের অন্তর্ভুক্তই থেকে যায়। সুতরাং এ ধরনের লেনদেন শরিয়তসম্মত নয়।

Manual2 Ad Code

জায়েজ বিকল্প পদ্ধতি

Manual2 Ad Code

উল্লেখ্য, জায়েজ পন্থায় অন্যের জমি ভোগ করতে চাইলে ঋণ প্রদান ও বিনিময়ে বন্ধক হিসেবে জমি গ্রহণের চুক্তি না করে শুরু থেকেই পত্তন বা ভাড়া চুক্তি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জমির মালিকের একত্রে বেশি টাকার প্রয়োজন হলে জমির ভাড়া ধার্য করে একসঙ্গে কয়েক বছরের জন্য জমি ভাড়া দিয়ে অগ্রিম ভাড়া নেওয়া যাবে।

যেমন- কারো এক লাখ টাকার প্রয়োজন, এক বিঘা জমির বার্ষিক ভাড়া হয় ১০ হাজার টাকা। তখন সে ১০ বছরের জন্য জমিটি ভাড়া দিয়ে অগ্রিম এক লাখ টাকা ভাড়া হিসেবে নিতে পারবে। এরপর যে কয় বছর অর্থদাতা জমি ভোগ করবে, সে কয় বছরের ভাড়া ওই টাকা থেকে কর্তিত হবে। ১০ বছরের আগে জমি ফেরত দিলে আনুপাতিক হারে অবশিষ্ট টাকা জমিওয়ালা ভাড়াগ্রহীতাকে ফেরত দেবে।

আর কেউ যদি আগে থেকে ভাড়া চুক্তি না করে বন্ধকি চুক্তি করে, সে ক্ষেত্রে অর্থদাতা বন্ধকি জমি থেকে উপকৃত হতে চাইলে আগের বন্ধকি চুক্তি বাতিল করে নতুনভাবে ভাড়া চুক্তিতে আবদ্ধ হতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে জমির ভাড়া যুক্তিযুক্ত হতে হবে, এলাকার এই মানের জমির ভাড়া সাধারণত যে পরিমাণ, তার সমান বা কাছাকাছি হতে হবে। অর্থাৎ নামমাত্র ভাড়া ধরা চলবে না; বরং তা বাস্তবসম্মত হতে হবে।

বিডি-প্রতিদিন

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com