হাকালুকি পর্যটন সুবিধা দিতে বিনিয়োগের আশ্বাস মোস্তাকিম রাজার
ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিনিধি
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া ইউনিয়নের আলাদা পরিচয় তার প্রাকৃতিক সাজ। প্রকৃতির অকৃপণ করুনায় ঘেরা হাকালুকি তীরের ঘিলাছড়া ইউনিয়ন। একপাশে এশিয়ার বৃহত্তম হাওরের অপার সৌন্দর্য অন্যপাশে গাছগাছালি পাহাড় টিলা বাগানঘেরা ছবির মতো সবুজ গ্রামগুলো। সব মিলিয়ে এই অঞ্চলটি পর্যটনের জন্য সমৃদ্ধ একটি অঞ্চল।
বর্ষা মৌসুমে হাকালুকি হাওর হয়ে উঠে মিনি বঙ্গপোসাগর, আর ঘিলাছড়া হয়ে উঠে একখণ্ড কক্সবাজার। দিগন্তজোড়া বিস্তীর্ণ জলরাশি, স্বচ্ছ জলের ডেউয়ে দুরন্তপনা আর চারপাশে পানিঘেরা হিজলবন যেন কোন সাগরের মাঝে ফোটা সবুজ দ্বিপ।
বর্ষা ও শীত দুই মৌসুমেই আলাদা আলাদা সৌন্দর্য মেলে ধরে হাকালুকি হাওর। প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী আসেন এই অঞ্চলে।
প্রমোদ তরী হাওর বিলাস, স্পিড বোট, জেটস্কি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তারা ঘুরে বেড়ান হাওরের বুকে। স্বচ্ছ পানিতে জলকেলিতে মেতে উঠেন প্রায় সবাই।
তবে এ অঞ্চলে পর্যটনের জন্য তেমন কোনো অবকাঠামো গড়ে উঠেনি এখনো। সিলেট বিভাগ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকরা এখানে আসেন। ঘিলাছড়া জিরো পয়েন্ট থেকে হাকালুকি হাওর শুরু হলেও এখানে শুরু হয়নি কোনো আধুনিক সুবিধা।
এখানে থাকার মত কোন আবাসিক হোটেল বা খাবারের জন্য ভাল কোনো রেস্টুরেন্ট নেই। তাই দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা ফিরতে হয় সন্ধ্যালগ্নেই। বিস্তৃত জলরাশির উপর রাতের জোসনা বিলাস উপভোগ সম্ভব হয়না থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা না থাকায়।
বহু বছর থেকে সুবিধা বৃদ্ধির দাবি উঠলেও কার্যত কোন উদ্যোগ নেয়নি কোনো সরকার। এ ব্যাপারে আধুনিক ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা শিল্পপতি, সমাজকর্মী ব্যারিস্টার মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী।
বুধবার (৩০ জুলাই) তার উদ্যোগে হাকালুকি হাওর ভ্রমনের আয়োজন ছিল। এসময় এক বক্তব্যে তিনি বলেন, পর্যটন এলাকায় সরাসরি বিনিয়োগ হলে সরকারেরই লাভ। বহু বছর দাবি তুলেও কাজ হয়নি। তাই সরকারি বাধা বিপত্তি না থাকলে সরকার সুযোগ দিলে আমি বিনিয়োগ করতে রাজি। এখানে উপযুক্ত বিনিয়োগ করলে পর্যটকদের সুবিধার পাশাপাশি কর্মসংস্থানও বাড়বে। বেকারত্ব হ্রাস করতে এটা সহায়ক হবে।