• সিলেট, রাত ৮:১৫, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হ*ত্যা*কা*ণ্ডে*র সময় চিৎকার শুনেও এগিয়ে আসেনি কেউ

admin
প্রকাশিত আগস্ট ১২, ২০২৬
হ*ত্যা*কা*ণ্ডে*র সময় চিৎকার শুনেও এগিয়ে আসেনি কেউ

Manual5 Ad Code

হ*ত্যা*কা*ণ্ডে*র সময় চিৎকার শুনেও এগিয়ে আসেনি কেউ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেট মহানগরীর একটি বাসায় স্বামী-স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা বাসার ভেতর ঢুকে স্বামী-স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাকে কুপিয়ে খুন করে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা ডাকাতি কিংবা পারিবারিক পূর্ববিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে মহানগীর রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার মিতালি ১১১ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় এই ঘটনা ঘটে।

 

নিহতরা হলেন- মৃত আবরু মিয়ার ছেলে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার মিতালি ১১১ নম্বর বাসার মালিক মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)।

Manual7 Ad Code

 

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, সাত্তার মিয়ার গ্রামের বাড়ি বিয়ানীবাজার এলাকার আখাখাজনায়। রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত তিনি। একসময় তিনি ব্যবসায়ী নেতাও ছিলেন। এলাকায় সজ্জ্বন ব্যক্তি হিসেবেই আব্দুস সাত্তারের ব্যাপক পরিচিতিও রয়েছে। এছাড়াও মিতালী আবাসিক এলাকায় তাঁর পাশাপাশি তিনতলা দুটি বাসা রয়েছে। তার মধ্যে ১১১ নম্বরের ৩য় তলাবিশিষ্ট নিজস্ব বাসায় বসবাস করতেন। উপরের তলা ও নিচতলায় ভাড়াটিয়ারা থাকতেন এবং তিনি দ্বিতীয় তলায় থাকেন। মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তারর সাথে বাসায় বসবাস করতেন তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও তাদের গৃহপরিচারিকা তাহমিনা। দুই বিল্ডিংয়ের বাকি ফ্ল্যাটগুলোতে ভাড়াটিয়ারা থাকতেন। আব্দুস সাত্তারের তিন মেয়ে ও এক ছেলে। এক ছেলে ও এক মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ও দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে থাকেন। সাত্তার মিয়া বয়স্ক লোক হওয়ায় তিনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্তও বলে জানা যায়।

 

Manual2 Ad Code

 

Manual7 Ad Code

পাশের বাসার টিপু মিয়া জানান, ঘটনার দিন বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে মহানগীর রায়নগর এলাকায় বিদ্যুতের ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছিল। প্রায়ই বাসার লোকজন ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎকরে আনুমানিক ৯টার দিকে সাত্তার মিয়ার বাসা থেকে চিৎকারের শব্দ শোনা যায়। তখন অনেকেই ধারণা করেন, সাত্তার মিয়া অসুস্থ থাকার জন্য হয়তো তিনি বিছানা থেকে পড়ে গেছেন। তাই তেমন একটু গুরুত্ব দেন নি। পরবর্তীতে উনার বাসা থেকে বাসার মহিলারা সাত্তার মিয়ার বাসার বেলকনিতে রক্ত দেখতে পান। এসময় তারা দ্রুত চিৎকার-চেচামেচি করলে আশপাশের আরও লোকজন জড়ো হন। পরবর্তীতে থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের প্রধান দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে লাশ উদ্ধার করে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও মহানগর তাঁতীদলের সদস্যসচিব আমিনুল ইসলাম বেলাল জানান, সকাল ৯টার দিকে আব্দুস সাত্তারের বাসা থেকে চিৎকার শোনা গেছে। বাসায় অসুস্থ কেউ চিৎকার করছেন ভেবে কেউ আর এগিয়ে যাননি। সকাল ১০টার দিকে বাসার রঙের কাজের জন্য একজন মিস্ত্রি এসে ডাকাডাকি করেও সাড়াশব্দ পায়নি। এসময় পাশের বিল্ডিংয়ের দু’তলার এক ভাড়াটে দেখতে পান আব্দুস সাত্তারের বাসার দরজার নিচ দিয়ে বারান্দায় রক্ত গড়িয়ে বেরুচ্ছে। বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ এসে বাসার ভেতর থেকে লাশ উদ্ধার করে।

 

এসময় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসার একটি রুমে আব্দুস সাত্তারের ও অপর একটি রুমে সুরাইয়া ও তাহমিনার রক্তাক্ত মরদেহ পড়েছিল। বাসার দক্ষিণ দিকের একটি দরজা দিয়ে ঘাতকরা পালিয়ে গেছে বলে প্রমাণ মিলেছে। দোতলা থেকে নিচে নামার সময় রক্তের দাগও লেগেছিল সেখানে।

 

Manual6 Ad Code

 

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, ‘খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ তিনটি উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ডাকাতি কিংবা পারিবারিক পূর্ববিরোধের জের ধরে হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ঘটেছে। বাসার ভেতরে আলমিরা ও ওয়াডড্রব তছনছ অবস্থায় পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি দলিলও পাওয়া যায়। বাসার ভেতর থেকে স্বর্ণালঙ্কার বা মূল্যবান জিনিসপত্রও খোয়া যেতে পারে বলে পুলিশ ধারণা করছে।

পুলিশের সিআইডি, পিবিআই ও স্পেশাল টিম একযোগে ক্রাইম সিন প্রটেকশন ও তদন্তের কাজ করছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্যের সহায়তায় দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পুলিশ কমিশনার।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com