• সিলেট, রাত ৯:১৭, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিলেটে তিন হ ত্যা কা ণ্ড, কবে দেশে আসছেন নি হ ত দম্পতির সন্তানরা

admin
প্রকাশিত আগস্ট ১৩, ২০২৬
সিলেটে তিন হ ত্যা কা ণ্ড, কবে দেশে আসছেন নি হ ত দম্পতির সন্তানরা

Manual5 Ad Code

সিলেটে তিন হ ত্যা কা ণ্ড, কবে দেশে আসছেন নি হ ত দম্পতির সন্তানরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেট মহানগরীর রায়নগর আবাসিক এলাকায় মিতালি ১১১নম্বর বাসায় ট্রিপল হত্যাকাণ্ডে নিহত আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রবীণ ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সাত্তার ও তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া আক্তারের সন্তানরা সবাই প্রবাসে অবস্থান করছেন। নিহত এই দম্পতির চার সন্তান রয়েছেন। তার মধ্যে এক ছেলে ও এক মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন আবার আরও দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন।

 

পারিবারিক সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্যপ্রবাসী দুই মেয়ে আজ বৃহস্পতিবার দেশে পৌঁছাবেন। স্বজনদের বহনকারী ফ্লাইটটি সকাল সাড়ে ৯টায় অবতরণের কথা থাকলেও বিলম্বের কারণে দুপুর দেড়টায় সিলেটে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। অপরদিকে, নিহতের ছেলে সাবেক ছাত্রদল নেতা আরিফ ইফতেখার যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগামীকাল শুক্রবার দেশে আসবেন।

 

Manual6 Ad Code

এদিকে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে সিলেটে সেই ট্রিপল খুনের ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বর্তমানে নিহত দম্পতির মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে প্রবাসী সন্তানরা দেশে পৌঁছালে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হবে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির।

 

জানা যায়, বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে মহানগীর রায়নগর এলাকার মিতালি ১১১নম্বর বাসায় তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারান- বিয়ানীবাজার আখাখাজনা এলাকার মৃত আবরু মিয়ার ছেলে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার মিতালি ১১১ নম্বর বাসার মালিক মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫)।

 

পুলিশ জানায়, এই ট্রিপল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়র পরপরই ওই দিন বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে (৪ ঘন্টার ভেতরে) অভিযান দিয়ে অভিযুক্ত রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির বাসিন্দা এবং মৃত নূর মিয়া (কবিরাজ) ছেলে বাবুল মিয়া (৪০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার কথা স্বীকার করেন তিনি। তার দেওয়া তথ্যমতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার অভিযানে নামে পুলিশ। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বাবুল মিয়ার দেখানো স্থান থেকেই এই ছোরা উদ্ধার করে পুলিশ।

বাবুল মিয়া গ্রেফতার ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম গণমাধ্যমকে বলেন, গৃহকর্মী তাহমিনার সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পূর্ব পরিচিত হওয়ায় বুধবার বাবুল মিয়া ওই বাড়িতে যান। দরজায় নক করলে গৃহকর্মী তাহমিনা দরজা খুলে তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। পরে একটি কক্ষে গিয়ে তাহমিনার সাথে শারিরীক সম্পর্ক করতে চান। কিন্তু তাহমিনা সেই সম্পর্কে অমত প্রকাশ করলে তার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাবুল মিয়া ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করে। এ সময় সুরাইয়া এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় এবং একপর্যায়ে তাকেও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থলে তিনজনকে হত্যার পর বাবুল মিয়া বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে সে রায়নগর এলাকায় নিজের বাড়িতে ফিরে আসে। পুলিশের গঠিত বিশেষ টিমের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির, ‘সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে স্থানীয়দের সহায়তায় সন্দেহভাজন বাবুলকে শনাক্ত করা হয়। ঘটনার পর সে এলাকা ত্যাগ না করে রায়নগর রাজবাড়ির আক্তার মিয়ার কলোনিতে অবস্থান করছিল। সাদাপোশাকে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটকের সময় তার গায়ে লাল রঙের টি-শার্ট ছিল এবং হাতে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।’ তিনি বলেন, ‘হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। নিহতের মেয়েদের সাথে কথা হয়েছে তারা দেশে আসছেন।’

 

প্রসঙ্গত, মো. আব্দুস সাত্তারের গ্রামের বাড়ি বিয়ানীবাজার এলাকার আখাখাজনায়। রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত তিনি। আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক ছিলেন। একসময় তিনি কয়লা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টা ছিলেন। এছাড়াও মিতালী আবাসিক এলাকায় তাঁর পাশাপাশি তিনতলা দুটি বাসা রয়েছে। তার মধ্যে ১১১ নম্বরের ৩য় তলাবিশিষ্ট নিজস্ব বাসায় বসবাস করতেন। উপরের তলা ও নিচতলায় ভাড়াটিয়ারা থাকতেন এবং তিনি দ্বিতীয় তলায় থাকেন। মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তারর সাথে বাসায় বসবাস করতেন তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও তাদের গৃহপরিচারিকা তাহমিনা। দুই বিল্ডিংয়ের বাকি ফ্ল্যাটগুলোতে ভাড়াটিয়ারা থাকতেন। আব্দুস সাত্তারের তিন মেয়ে ও এক ছেলে। এক ছেলে ও এক মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ও দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে থাকেন। সাত্তার মিয়া বয়স্ক লোক হওয়ায় তিনি বিভিন্ন রোগে আক্রান্তও বলে জানা যায়।

Manual8 Ad Code

 

 

Manual7 Ad Code

সিলেটভিউ২৪ডটকম

Manual7 Ad Code

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com