• সিলেট, রাত ৩:৫০, ১লা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও দ্বিকক্ষ সংসদ নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব

admin
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও দ্বিকক্ষ সংসদ নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব

Manual7 Ad Code

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও দ্বিকক্ষ সংসদ নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছরেই অনড় সরকার
বিরোধী দলসহ সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি

অনলাইন ডেস্ক

 

Manual8 Ad Code

 

বিরোধী দলসহ সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সংবিধান সংশোধনের ওপর জোর দিয়েছেন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও টকশো ব্যক্তিত্বরা। একই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার গঠন ও প্রক্রিয়া, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও সক্ষমতা এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে লিখিত ও সুস্পষ্ট প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অংশীজনদের মতামত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সংশোধনী প্রণয়নের কথা জানিয়েছে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি।

ব্যক্তিতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ঝুঁকি এড়াতে একজন ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব থেকে সরে আসেনি সরকার। এ প্রস্তাবকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে কিছু মতামত এলেও ক্ষমতাসীন দলের অবস্থান এখনো অপরিবর্তিত। তবে বিরোধী দল আলোচনায় এলে জুলাই জাতীয় সনদের বিভিন্ন প্রস্তাব ও ভিন্নমত নিয়ে সমঝোতার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

বৈঠকে দেশের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, টিভি ও অনলাইন মিডিয়ার প্রতিনিধি এবং টকশোতে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তাব কমিটিতে উত্থাপন করেন। কমিটি বৈঠকে আলোচনার বাইরে কারো লিখিত প্রস্তাব থাকলে সেটি কমিটিতে প্রেরণ করার জন্য অনুরোধ করে।

Manual8 Ad Code

বৈঠক শেষে সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও জানান, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রয়োজনীয়তা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার গঠনপ্রক্রিয়া, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনার প্রস্তাব এসেছে। এসব মতামত পর্যালোচনা করে সংসদে উপস্থাপনের জন্য একটি গ্রহণযোগ্য সংবিধান সংশোধনী প্রতিবেদন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বিশেষ কমিটি। গণমাধ্যমের সম্পাদক, বার্তা ব্যবস্থাপক, সাংবাদিক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে পাওয়া মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ ১০ বছর থাকার প্রস্তাব নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আলোচনায় কেউ কেউ মত দিয়েছেন, একজন ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী থাকার মেয়াদ ১০ বছর বেঁধে দেওয়া অগণতান্ত্রিক। কোনো ব্যক্তি ভালো কাজ করলে এবং জনগণ তাঁকে আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইলে সেই অধিকার থাকা উচিত বলেও মত এসেছে। তবে ব্যক্তিতান্ত্রিক বা স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ঝুঁকি রোধ করতেই একজন ব্যক্তির প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাব দিয়েছিলেন। দলের স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রস্তাবটি দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে নির্বাচনী ইশতেহারেও তা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই সরকার এখনো এ প্রস্তাবে অনড় রয়েছে। তবে সংসদে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব এলে তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবটির পক্ষে ও বিপক্ষে উভয় ধরনের মতামত এসেছে। দীর্ঘ সময় একই ব্যক্তির ক্ষমতায় থাকার ঝুঁকি যেমন আলোচনায় এসেছে, তেমনি জনগণের পছন্দ অনুযায়ী নেতৃত্ব নির্বাচনের গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্নও উঠেছে। কমিটি এসব মতামত পর্যালোচনা করবে।

গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের মতো একক রাষ্ট্রব্যবস্থায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ কতটা প্রয়োজন, তা পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব এসেছে। এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ একটি একক রাষ্ট্র। এখানে অঙ্গরাজ্যভিত্তিক কোনো কাঠামো নেই। এ বাস্তবতায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কেউ কেউ মত দিয়েছেন। তবে জুলাই জাতীয় সনদে দ্বিকক্ষ সংসদ গঠনের বিষয়ে ঐকমত্য হওয়ায় সরকার সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এগোতে চায়। তবে নতুন কোনো প্রস্তাব এলে তা সংসদে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি। রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত পর্যালোচনা করে সংসদ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

Manual2 Ad Code

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের সঙ্গে মতপার্থক্য নিরসনে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে প্রণীত ও স্বাক্ষরিত হয়েছে, সরকার সেটি বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে সনদের বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। বিরোধী দল আলোচনায় এসে কোনো অংশে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিলে তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, কমিটি সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সংবিধান সংশোধন করতে চায়। যেসব বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়নি, সেগুলোও আলোচনার আওতায় আসতে পারে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার কাঠামো, গঠনপ্রক্রিয়া এবং এর সঙ্গে কারা যুক্ত থাকবেন, এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি বিশেষ কমিটি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে গঠিত হবে, কোন প্রক্রিয়ায় সদস্য নির্বাচন করা হবে এবং কী ধরনের ধাপ অনুসরণ করা হবে, তা নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন। জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে কিছু প্রস্তাব রয়েছে। আবার কিছু বিষয়ে নোট অব ডিসেন্টও রয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিকল্প পদ্ধতিগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উন্মুক্ত আলোচনার পর দেশের জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি সংসদে বিবেচনা করা হবে।

গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার বিষয়েও মতামত এসেছে। এ ছাড়া সংবিধানের প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে। এসব মতামত লিখিতভাবে পাওয়ার পর কমিটির বৈঠকে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাবেক প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন দলের সঙ্গেও আলোচনার পরিকল্পনার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন ও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় যাঁরা ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের মতামতও নেওয়া হবে।

বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনা শেষে একটি প্রতিবেদন তৈরি করবে বিশেষ কমিটি। সেটি জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের পর সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপন করা হবে।

টকশো ব্যক্তিত্ব ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্ত বলেন, বৈঠকে অংশ নেওয়া সবাইকে কমিটির পক্ষ থেকে ধৈর্য ধরে শোনা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার গঠনপ্রক্রিয়া। এ বিষয়ে সবাইকে সুচিন্তিত ও লিখিত মতামত দিতে বলা হয়েছে।

Manual4 Ad Code

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে টেকসই করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সংবিধান এমনভাবে সংশোধন করা প্রয়োজন, যাতে তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর থাকে এবং অল্প সময়ের ব্যবধানে আবার সংশোধনের প্রয়োজন না হয়।

জুলাই জাতীয় সনদের যেসব বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট নেই, সেগুলো ঐকমত্যের ভিত্তিতে বাস্তবায়নের পক্ষে অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী মত দিয়েছেন বলে জানান তিনি। নোট অব ডিসেন্ট থাকা বিষয়গুলো নিয়েও রাজনৈতিক দলগুলো আলোচনা করে কোনো কোনো প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা যায় কি না, সে বিষয়ে মত এসেছে।

বিরোধী দলসহ সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলকে আলোচনায় রেখে সংশোধনী প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. সায়ন্ত বলেন, একসঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া গেলে বিতর্ক কমবে এবং সংশোধনীর গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।

বৈঠকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা বলেন, বাংলাদেশের বাস্তবতায় উচ্চকক্ষের প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। উচ্চকক্ষ হলে রাষ্ট্রের ব্যয় বাড়বে কি না এবং এটি অতিরিক্ত বোঝা তৈরি করবে কি না, এ বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আবার উচ্চকক্ষে বিভিন্ন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হলে নিরপেক্ষ সিভিল সোসাইটির পরিসর সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কার কথাও কেউ কেউ বলেছেন।

বিশেষ কমিটির বৈঠকে গণমাধ্যম ব্যক্তিদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং কমিটির সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল।

বিডি প্রতিদিন

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com