জনমুখী পুলিশিংয়ের মূল ভিত্তি হলো জনগণের আস্থা অর্জন : আইজিপি
অনলাইন ডেস্ক
জনমুখী পুলিশিংয়ের মূল ভিত্তি হলো জনগণের আস্থা অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
আজ বুধবার রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের মাল্টিপারপাস হলে ‘কমিউনিটি পুলিশিং নীতিমালা প্রণয়ন’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আইজিপি বলেন, জনমুখী পুলিশিংয়ের মূল ভিত্তি হলো জনগণের আস্থা অর্জন এবং সেই আস্থাকে কার্যকর অংশীদারত্বে রূপ দেওয়া। জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধ এবং নিরাপদ সমাজ গঠনে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে কিশোর গ্যাং প্রতিহত করা এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ সততা, ন্যায়সংগত আচরণ ও পারস্পরিক সম্মানের সঙ্গে জনগণকে সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল কমিউনিটি গড়ে তুলতে জনগণের সঙ্গে পুলিশের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে হবে। পারস্পরিক আস্থা অর্জনের মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশকে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আইজিপি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় খুঁজে বের করে জাতীয় কাবাডি দল গঠনের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘প্রথম কমিউনিটি পুলিশিং কাবাডি টুর্নামেন্ট-২০২৬’ ইতোমধ্যে সারা দেশে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। কাবাডি বাংলাদেশের জাতীয় খেলা ও গৌরবের অংশ। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর (অতিরিক্ত আইজি) কাজী মো. ফজলুল করিম। তিনি ‘বাংলাদেশে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং পুনর্গঠন: একটি জনমুখী, প্রতিরোধমূলক ও গোয়েন্দা-তথ্যনির্ভর পুলিশিং কাঠামোর পথে’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
মূল প্রবন্ধে বিদ্যমান অভিজ্ঞতা ও অর্জনের ভিত্তিতে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংকে আরও প্রতিরোধমূলক, জবাবদিহিমূলক, তথ্যনির্ভর ও জনসম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান এবং পুলিশ স্টাফ কলেজের ভাইস-রেক্টর ড. মো. আব্দুস সোবহান। তারা কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংকে আরও কার্যকর করার বিভিন্ন বাস্তব দিক তুলে ধরেন।
কর্মশালায় মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, মতামত ও সুপারিশ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব মতামত সমন্বয় করে বাংলাদেশ পুলিশের কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংকে আরও কার্যকরভাবে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের লক্ষ্যে বাস্তবমুখী ও বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশমালা প্রণয়ন করা হবে।
কর্মশালায় বাংলাদেশ পুলিশের কমিউনিটি অ্যাফেয়ার্স অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।
বিডি প্রতিদিন