সিলেটের ভূমিকম্প ঝুঁ কি মোকাবেলায় পরিকল্পনার ঘোষণা জেলা প্রশাসকের
নিউজ ডেস্ক
সিলেট নগরীর ভূমিকম্প ঝুঁকি বিবেচনায় একটি সমন্বিত ও বাস্তবভিত্তিক প্রস্তুতি পরিকল্পনা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
তিনি জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের মতো বড় দুর্যোগ মোকাবেলায় নগরীর ছাত্রছাত্রীদের সমন্বয়ে একটি বৃহৎ স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হবে এবং পূর্বের স্বেচ্ছাসেবক টিমগুলো পুনর্গঠন করা হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ভবনগুলো ধাপে ধাপে ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) আয়োজিত ‘সিলেটে ভূমিকম্পের ঝুঁকি ও আমাদের প্রস্তুতি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক।
তিনি বলেন, ‘সিলেট ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হওয়ায় এখনই সমন্বিত প্রস্তুতি গ্রহণ না করলে বড় ধরনের প্রাণহানি ও সম্পদ ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, প্রকৌশলী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।’
নগর পরিকল্পনায় বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন জেলা প্রশাসক।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ও এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুশতাক আহমদ। তিনি বলেন, ‘সিলেট অঞ্চল বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত। ১৮৬৯ সালের কাছাড় ভূমিকম্প ও ১৮৯৭ সালের গ্রেট ইন্ডিয়ান ভূমিকম্প এ অঞ্চলে ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছিল। নয় মাত্রার একটি ভূমিকম্প হলে সিলেট শহরের অর্ধেকের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা ব্যাপক প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।’
তিনি আরও জানান, গবেষণায় দেখা গেছে সিলেট শহরের পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সিলেটের অধিকাংশ ভবন নিম্ন থেকে মধ্যম উচ্চতার এবং অনেক ভবনই বিল্ডিং কোড প্রণয়নের আগের অথবা প্রকৌশল নকশাবিহীন। কাঠামোগত অনিয়ম ও অপর্যাপ্ত ভূমিকম্প নকশাই এসব ভবনের প্রধান দুর্বলতা।
বাপা সিলেটের সভাপতি জামিল আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কাসমির রেজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আলী আকবর। স্বাগত বক্তব্য দেন বাপা সিলেটের সহ-সভাপতি আইনজীবী এমাদ উল্লাহ শহীদুল ইসলাম।
আলোচনায় অংশ নেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম, কৃষি প্রযুক্তি অনুষদের ডিন মুক্তারুন ইসলাম, সিলেট প্রেস ক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবির, সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি দপ্তর, পেশাজীবী ও পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সেমিনারে সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।