• সিলেট, সকাল ১০:৫৩, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হা র্ড লা ই নে র নির্দেশ ইসির

admin
প্রকাশিত ডিসেম্বর ২২, ২০২৫
হা র্ড লা ই নে র নির্দেশ ইসির

Manual8 Ad Code

হার্ডলাইনের নির্দেশ ইসির,
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈঠক, গণমাধ্যমে হামলা নিয়ে উদ্বেগ

অনলাইন ডেস্ক

নির্বাচনি আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে কমিশন দাবি করলেও নির্বাচনি পরিবেশ ব্যাহত করে এমন কর্মকান্ড কেউ করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যৌথ বাহিনীর অভিযান পুনরায় চালু হবে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা তৈরিতে তা ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে ইসি।

গতকাল নির্বাচন ভবনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন। সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ সভায় চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে বেলা ১২টায় তিন বাহিনী প্রধান ও পৌনে ৩টায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, বাহিনী ও সংস্থা প্রধান ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পরে সন্ধ্যায় নির্বাচন ভবনে আইনশৃঙ্খলার সার্বিক বিষয় নিয়ে ব্রিফিং করেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

Manual1 Ad Code

তিনি বলেন, সার্বিকভাবে যদি বলি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অবশ্যই আছে। যারা নির্বাচনকে বিঘিœত করতে চায়, আন্ডারমাইন করতে চায়, এগুলো সব চিহ্নিত করেছি। জনমনে যাতে স্বস্তি ফেরত আসে, মানুষ যেন আশ্বস্ত হয় সে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। কোনো ঘটনা ঘটানোর দুঃসাহস যাতে না দেখায়, তারা যেন পালাতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা সংস্থাসহ বাহিনীগুলোকে সচেতন থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ নির্বাচন কমিশনার জানান, তফসিল ঘোষণার পর থেকে আচরণবিধি প্রতিপালন সন্তোষজন হলেও কিছু কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে। এরই মধ্যে ওসমান হাদি হত্যাকান্ড ভোটের পরিবেশে প্রভাব ফেলেছে। এক প্রশ্নের জবাবে আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে যে সময়টা পার করেছি, সেদিক থেকে একটা বড় ঘটনা ঘটে গেছে শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকান্ড। মাঠপর্যায়ে জেলা, উপজেলা পর্যায়ে আচরণবিধি প্রতিপালনে অতীতের চেয়ে বেশি সতর্ক বলে মনে করেন তিনি।

এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, জনমনে যাতে স্বস্তি ফেরত আসে, মানুষ যেন আশ্বস্ত হয়, দলগুলো যাতে যথাযথভাবে রাজনৈতিক কর্মকান্ড করতে পারে, নির্বাচনি তফসিল অনুযায়ী সব কাজ যেন নির্বিঘ্ন হতে পারে, সে নির্দেশনা দিয়েছি। চোরাগোপ্তা হামলার বিষয়েও সতর্ক ও ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে তৎপর হওয়ার জন্য বলেছে ইসি।

Manual6 Ad Code

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, দল ও প্রার্থীকে, যারা সমর্থক ও বন্ধু সেজে পাশে আসতে চায়, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।

প্রথমবারের মতো তিন বাহিনী প্রধানের সঙ্গে বৈঠক : ইসি আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, প্রথমবারের মতো আমরা তিন বাহিনী প্রধান সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী প্রধানের সঙ্গে আলাদাভাবে মিটিং করেছি। পরবর্তীতে বাকি সব বাহিনী প্রধানসহ সেনা ও বিমানবাহিনী প্রধানের প্রতিনিধি, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, উপপ্রধানরাসহ মিটিং করা হয়েছে। এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক পরিপত্র জারি হয়েছে। ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়েছে বৈঠকে।

Manual4 Ad Code

তিনি জানান, তফসিল থেকে শুরু করে রবিবার পর্যন্ত সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন, দিকনির্দেশনা এবং অপরাপর আনুষ্ঠানিক কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা যে মূল্যায়নটা পেয়েছি বিভিন্ন বাহিনীর পক্ষ থেকে-বর্বরোচিত এক হামলায় জুলাই যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি শাহাদাত বরণ করেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত সাত-আট দিন আমরা পুরা জাতি শোকে মুহ্যমান ছিলাম এবং আমাদের ফোকাসটা ওদিকেই ছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ে নির্বাচনি কার্যক্রম চলমান আছে এবং অন্যান্য জায়গায় নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি জানান, আমরা সুনির্দিষ্টভাবে কতগুলো নির্দেশনা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দিয়েছি। নির্বাচনের পরিবেশ বিঘিœত করে এ ধরনের কোনো ধরনের কর্মকান্ড সহ্য করা হবে না। এবং বাহিনীগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে নির্বাচনের পরিবেশ ক্ষতি করে এ ধরনের কোনো কর্মকান্ড নিরুৎসাহিত করতে এবং প্রয়োজনে বাধা দিতে যা করা প্রয়োজন তা তারা করবেন। ভোটের পরিবেশ বিঘ্ন করে এমন ধরনের অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর জন্য নির্দেশনা রয়েছে ইসির। শিগগির গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আলাদা বৈঠকের কথা রয়েছে। শহীদ ওসমান হাদির ক্ষেত্রে যে ঘটনাটা ঘটেছে, আগে থেকে যতটুকু তথ্য জানা দরকার ছিল বা সেটা কেন পারা গেল না তাও জানতে চাওয়া হয় বৈঠকে।

আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, আমরা নির্দেশনা দিয়েছি- যৌথ বাহিনীর অপারেশনের অন্যতম লক্ষ্য হবে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসা এবং সার্বিকভাবে সাধারণ মানুষের প্রার্থীদের মাঝে, দলগুলোর মাঝে একটা আস্থার পরিবেশ তৈরি করা। এলাকাভিত্তিক চেকপয়েন্ট অপারেশনের ওপর গুরুত্ব ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার ব্যাপারে জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় অস্ত্রের আনাগোনা আছে বলে জানা যায় সেসব এলাকায়। রিমোট এলাকায় অধিকতর খবরদারি ইত্যাদির ব্যাপারে বলা হয়েছে।

প্রার্থীর নিরাপত্তায় ব্যবস্থা ও আচরণবিধি প্রতিপালনে সন্তোষ : সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর নিরাপত্তার বিষয়েও পুলিশি নিরাপত্তা উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে ইসিকে। এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রার্থী হিসেবে যাদের মনোনয়ন দিচ্ছেন বা ইন্ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে যারা প্রার্থী হিসেবে ইলেকশন করতে চাচ্ছেন, তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত হয়েছি। পুলিশের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই একটা প্রোটোকল দাঁড় করানো হয়েছে এবং সেই প্রোটোকল অনুযায়ী যারা যারা নিরাপত্তা চাচ্ছেন তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তবে এর বাইরেও যদি কেউ নিরাপত্তা ঘাটতি অনুভব করেন, কোনো সংবেদনশীলতা অনুভব করেন তারা পুলিশের কাছে এপ্রোচ করলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

নাশকতামূলক কর্মকান্ডেও নজর ইসির : তফসিল ঘোষণার পর থেকে নানা জায়গায় নাশকতামূলক কর্মকান্ডের সঙ্গে ভোটের সম্পৃক্ততা না থাকলেও পরিবেশে নানাভাবে প্রভাব পড়ে বলে মনে করে ইসি। এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমরা জানতে চেয়েছিলাম যে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু জায়গায় নাশকতামূলক কর্মকান্ড হয়েছে। এই নাশকতামূলক কর্মকান্ডের সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা, প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘিœত করছে কি না, বলার অপেক্ষা রাখে না যে কিছুটা হলেও তো এটা নির্বাচনের পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলে।

২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিবন্ধনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি জানান, পোস্টাল ভোট নিয়ে আলোচনা হয়েছে; মাত্র চার দিন বাকি আছে। পোস্টাল ভোটে যারা ভোট দিতে পারবেন তারা যেন সময় মতো রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন, সেগুলোর জন্য বলা হয়েছে।

তফসিল ঘোষণার পর গণমাধ্যমে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও বিভিন্ন জায়গায় মানুষকে পুড়িয়ে মারাসহ কয়েকটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ইসির পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তিনি বলেন, এ প্রশ্নগুলো আমরাও জানতে চেয়েছি বিভিন্ন বাহিনীর কাছ থেকে। এগুলো নিয়ে আমরাও কনসার্ন। আপনারা যেসব বিষয়ে উদ্বিগ্ন, আমরাও একইভাবে উদ্বিগ্ন। কারণ এটার সঙ্গে নির্বাচনি পরিবেশের সম্পৃক্ততা আছে। তফসিল ঘোষণার পর যাই হোক না কেন, সেটার প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ প্রভাব নির্বাচনের পরিবেশের ওপর পড়ে। আপনারা আমাদের অংশীজন ও পার্টনার। আপনারা যদি নিরাপদ বোধ না করেন, তাহলে দায়িত্ব পালন করবেন কীভাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে এ নির্বাচন কমিশনার জানান, আগস্টের পর মানবিক পুলিশিংয়ের নির্দেশনার সুযোগ কেউ কেউ অপব্যবহার করেছে। আমরা ইসির পক্ষ থেকে কঠোরভাবে বাহিনী ও সংস্থাগুলোকে বলেছি, আমরা মানবিক হব, যারা মানবিক আচরণ করবে তাদের প্রতি; কিন্তু যারা দস্যুতা করতে চায়, ভ্যানডালিজম করতে চায়, নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করতে চায়, আমার ভাইকে হত্যা করতে চায়- তাদের প্রতি মানবিক হওয়ার দরকার নেই। ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত আগ্রহীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন।

বিডি প্রতিদিন

Manual3 Ad Code

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com