• সিলেট, রাত ১:০১, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দ কমেছে ৭৪%

admin
প্রকাশিত জানুয়ারি ৬, ২০২৬
স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দ কমেছে ৭৪%

Manual8 Ad Code

স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দ কমেছে ৭৪%

 

অনলাইন ডেস্ক

Manual5 Ad Code

 

পরিকল্পনা কমিশন ৩০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে দুই লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) চূড়ান্ত করেছে। এবার স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে সর্বোচ্চ ৭৪ শতাংশ কাটছাঁট করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা, পরিবহন, ধর্ম ও কৃষিতেও বড় কাটছাঁট করা হয়েছে। তবে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে পরিবেশ, স্থানীয় সরকার ও বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে।

সোমবার (৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় দুই লাখ কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি চূড়ান্ত করা হয়। এর মধ্যে বৈদেশিক ঋণ ৭২ হাজার কোটি টাকা এবং সরকারের কোষাগার থেকে বরাদ্দ ধরা হয়েছে এক লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা। ১২ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় প্রধান উপদেষ্টা সংশোধিত এডিপি অনুমোদন দেবেন।

স্বাস্থ্য খাতে বড় কাটছাঁটের বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের এক সচিব বলেন, খুব বেশি কার্যকর না হওয়ায় স্বাস্থ্যের সবচেয়ে বড় কর্মসূচি সরকারের সিদ্ধান্তে বাতিল করা হয়েছে। এখন সেটা প্রকল্প আকারে করা হচ্ছে। এ জন্য এ খাতে বরাদ্দ কমে গেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রগতি না থাকায় খরচ করতে পারবে না- এমন ঘোষণার পরই বরাদ্দ কাটছাঁট করা হয়েছে।

Manual4 Ad Code

২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপি এবং সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) তুলনা করে দেখা যায়, সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ক্ষেত্রে বরাদ্দের চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

এডিপির তুলনায় আরএডিপিতে কিছু খাতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ বাড়লেও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক খাতে বড় আকারের কাটছাঁট করা হয়েছে। এডিপির তুলনায় আরএডিপিতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের। এতে বরাদ্দ বেড়েছে ২৮ শতাংশ। এর পাশাপাশি স্থানীয় সরকার বিভাগে বরাদ্দ বেড়েছে ৮ শতাংশ। এই দুই খাতেই মূলত বরাদ্দ বাড়ানোর প্রবণতা দেখা গেছে।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ৭৭ শতাংশ কমানো হয়েছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণে। ৭৩ শতাংশ কমানো হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমেছে ৫৫ শতাংশ। এ ছাড়া বিদ্যুতে ২৭ শতাংশ, প্রাথমিক শিক্ষায় ২৯ শতাংশ, নৌপরিবহনে ৩৬ শতাংশ, রেলপথ ও কৃষিতে ৩৬ শতাংশ কমানো হয়েছে।

এছাড়া সেক্টরভিত্তিক বরাদ্দের তুলনায় দেখা যায়, আরএডিপিতে সবচেয়ে বড় কাটছাঁটের শিকার হয়েছে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট খাতগুলো। স্বাস্থ্য শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে ৭৪ শতাংশ, যা ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ হ্রাস। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সামাজিক সুরক্ষা খাত, ৭৩ শতাংশ। ৩৫ শতাংশ কমানো হয়েছে শিক্ষা, পরিবহন ও ধর্মে। অবকাঠামো খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সড়ক পরিবহন খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে ৩৮ শতাংশ।

সেক্টরভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সামগ্রিকভাবে পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ সেক্টরেই এডিপির তুলনায় আরএডিপিতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ বেড়েছে, যা ২০ শতাংশ। এর বিপরীতে সেক্টর পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ কমেছে স্বাস্থ্য খাতে, যেখানে কমেছে ৭৪ শতাংশ।

নগর পরিবহন খাতে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে মেট্রো রেল প্রকল্পগুলোতে। বড় কাটছাঁট করা হয়েছে মেট্রো রেল লাইন-১ প্রকল্পে। এখানে বরাদ্দ আট হাজার ৬৩১ কোটি টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮০১ কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৯১ শতাংশ কমেছে।

Manual5 Ad Code

কিশোরগঞ্জ এলিভেটেড সড়ক প্রকল্পে বরাদ্দ কমেছে ৯৫ শতাংশের বেশি। মতলব উত্তর-গজারিয়া সড়কের ওপর মেঘনা-ধনাগোদা সেতু প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো হয়েছে প্রায় ৯৭ শতাংশ। এসব প্রকল্পে বরাদ্দ কমায় উত্তরাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের গতি মন্থর হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ চার হাজার ৬৮ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে এক হাজার ৮৫ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। একইভাবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে বরাদ্দ এক হাজার ৩৯ কোটি টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩০৬ কোটি টাকা। দ্রুতগতির বাস ব্যবস্থা (বিআরটি) প্রকল্পেও বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৪২৫ কোটি টাকা থেকে ১৬৮ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। চট্টগ্রাম-দোহাজারী মিটার গেজ রেললাইনকে ব্রড গেজে রূপান্তর প্রকল্পে বরাদ্দ প্রায় ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষা ও নগর উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বরাদ্দও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খাদ্য কর্মসূচিতে বরাদ্দ প্রায় ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। ঢাকা স্যানিটেশন উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো হয়েছে ৪১ শতাংশের বেশি। নগর এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রতিরোধমূলক সেবা প্রকল্পগুলোর বরাদ্দও ৮০ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজস্ব সংকটের কারণে কিছুটা কমানো স্বাভাবিক হলেও স্বাস্থ্য ও উচ্চশিক্ষায় এত বড় কাটছাঁট মধ্য মেয়াদে মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা, চিকিৎসা অবকাঠামো ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা কমে যেতে পারে, যা দীর্ঘ মেয়াদে উৎপাদনশীলতার জন্য ক্ষতিকর।

আরএডিপি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনেক প্রকল্পে বাস্তবায়নের গতি প্রত্যাশার চেয়ে ধীর, বিদেশি সহায়তার অর্থছাড়ে বিলম্ব হচ্ছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়ছে। পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকার উন্নয়ন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে বাধ্য হয়েছে।

এ বিষয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, যে সময় স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ার কথা ছিল, ঠিক সেই সময়ই বরাদ্দ কমানো ‘হতাশাজনক’। তাঁর মতে, এসব খাতে ব্যয় বাড়ালে মানবসম্পদ উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়, পরিবারগুলোর আয় বাড়ে এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছেও অতিরিক্ত সম্পদ পৌঁছায়।

সৌজন্যে- কালের কণ্ঠ।

Manual2 Ad Code

বিডি-প্রতিদিন

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com