• সিলেট, সকাল ১০:২৮, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিলেটসহ সারাদেশে অটোরিকশা চলাচলে নতুন নীতিমালা, প্রজ্ঞাপন জারি

admin
প্রকাশিত অক্টোবর ৩০, ২০২৬
সিলেটসহ সারাদেশে অটোরিকশা চলাচলে নতুন নীতিমালা, প্রজ্ঞাপন জারি

Manual3 Ad Code

সিলেটসহ সারাদেশে অটোরিকশা চলাচলে নতুন নীতিমালা, প্রজ্ঞাপন জারি

অনলাইন ডেস্ক

 

সিলেটসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা ই-রিকশা চলাচলে নতুন বিধিমালা জারি করেছে সরকার। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধন ছাড়া কোনো ই-রিকশা সড়কে চলতে পারবে না।

একই সঙ্গে জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে ও প্রধান বাস চলাচলের সড়কে এসব যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ গতিসীমা, যাত্রী ধারণক্ষমতা, নিবন্ধন ফি ও চলাচলের রুট।

Manual3 Ad Code

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ‘সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ নামে জারি করা বিধিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি সিটি করপোরেশন সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে নিজ নিজ এলাকায় ই-রিকশার সংখ্যা নির্ধারণ করবে। প্রয়োজনে পুরো সিটি করপোরেশন এলাকা অথবা নির্দিষ্ট জোনভিত্তিক এসব যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।

বিধিমালায় বলা হয়েছে, ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার। প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার বা ওডোমিটার স্থাপন করতে হবে।

এছাড়া জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস চলাচলের সড়ক বা করিডোর এবং প্রশাসন কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত সড়কে ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে না। ফুটপাতেও এসব যান চালানো যাবে না। চালকদের সব সময় সড়কের বাম লেন অনুসরণ করতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, নিয়মবহির্ভূত ওভারটেকিং ও লেন পরিবর্তন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

Manual1 Ad Code

ই-রিকশায় চালক ছাড়া আকারভেদে সর্বোচ্চ দুই অথবা চারজন যাত্রী পরিবহন করা যাবে। যাত্রীদের হাতে বহনযোগ্য মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা যাবে না। পাশাপাশি ৪০ ডেসিবেলের বেশি তীব্রতার হর্ন ব্যবহার করা যাবে না।

Manual4 Ad Code

নিবন্ধনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের সত্যায়িত ছবি, নিবন্ধন ফি জমার রসিদ এবং নির্ধারিত ফিটনেস সনদসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে।

আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে সব শর্ত পূরণ হলে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেওয়া হবে। প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত একটি স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর ও নম্বর প্লেট দেওয়া হবে। কিউআর কোডযুক্ত নিবন্ধন নম্বর গাড়ির দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।

নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন মিলিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশা নিবন্ধন করা যাবে। তবে এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না।

নতুন বিধিমালায় দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আট হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি চার হাজার টাকা। অন্যদিকে চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা ও বার্ষিক নবায়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা। সব ধরনের ই-রিকশার ফিটনেস সনদের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার টাকা।

সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বিনামূল্যে কিউআর কোডযুক্ত নম্বর প্লেট ও বিস্তারিত তথ্যসংবলিত ব্লু-বুক সরবরাহ করবে। নিবন্ধন ও নবায়ন ফি থেকে পাওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয় হিসেবে গণ্য হবে।

বিধিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য পূরণ করতে হবে প্রতিটি ই-রিকশাকে। ফিটনেস সনদ এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রতিস্বাক্ষর ছাড়া কোনো ই-রিকশার নিবন্ধন বা নবায়ন করা যাবে না।

বর্তমানে সড়কে চলাচলকারী ই-রিকশাগুলোকেও নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তন করে অনুমোদন নিতে হবে। প্রতিটি ই-রিকশার ব্যবহারযোগ্য অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে নিবন্ধনের তারিখ থেকে ১২ বছর। এই সময় শেষ হলে নম্বর প্লেটসহ নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। পর্যায়ক্রমে ই-রিকশাগুলোকে বিমার আওতায় আনা হবে।

ই-রিকশা চলাচলের রুট নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ। সিটি করপোরেশন এলাকায় জোনভিত্তিক রুট নির্ধারণ করা হবে এবং এক জোনের ই-রিকশা অন্য জোনে চলতে পারবে না। জোন অনুযায়ী ই-রিকশার সংখ্যা ও নির্দিষ্ট রংও নির্ধারণ করা হবে।

পার্কিং ও চার্জিংয়ের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিটি ওয়ার্ডে বা উপযুক্ত স্থানে প্রয়োজনীয় পার্কিং এলাকা নির্ধারণ করবে। অনুমোদিত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট বা নির্দিষ্ট গ্যারেজে ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে হবে। এসব স্থানে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পুরোনো বা অকার্যকর ব্যাটারি উন্মুক্ত স্থান, মাটি, জলাশয় কিংবা সাধারণ বর্জ্যে ফেলা বা পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ব্যাটারি ভাঙা বা গলানোর কাজও করা যাবে না।

এ ছাড়া ই-রিকশা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। কমিটি বুয়েট নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যাচাই করে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের সুপারিশ করবে।

নতুন বিধিমালায় দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে চালকের দায়বদ্ধতাও নির্ধারণ করা হয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটলে চালককে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ি থামিয়ে আহত ব্যক্তিদের সহায়তা করতে হবে এবং পুলিশকে জানাতে হবে।

Manual8 Ad Code

নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, অননুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার, মোটর বা কাঠামো পরিবর্তন, নিষিদ্ধ এলাকায় চলাচল, বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য এবং দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এসব অপরাধের ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

অবৈধ ও ত্রুটিপূর্ণ ই-রিকশা চলাচল বন্ধে মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যৌথভাবে অথবা পৃথকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com