• সিলেট, রাত ৯:৪৪, ১লা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খালেদা জিয়ার পর কেউ ওঠেননি সেই লাল বাড়িটিতে

admin
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬
খালেদা জিয়ার পর কেউ ওঠেননি সেই লাল বাড়িটিতে

Manual5 Ad Code

খালেদা জিয়ার পর কেউ ওঠেননি সেই লাল বাড়িটিতে
মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার দোতলা ভবন

Manual1 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

 

রাজধানীর মিন্টো রোডের ২৯ নম্বর বাড়ি। সরকারি দোতলা লাল ভবনটি বিরোধীদলীয় নেতার জন্য বরাদ্দ। তবে গত ২৫ বছর এই ভবনে কেউ বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে বসবাস করেননি। সর্বশেষ বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া বসবাস করেছিলেন। তিনি ২০০১ সালে ভবনটি ছেড়েছিলেন। এরপর ২৫ বছর কেটে গেছে অথচ সেখানে আর কোনো বিরোধীদলীয় নেতা ওঠেননি। এতে নানান রকমের গাছপালায় ভরপুর বাড়িটির আঙিনা যেন নিষ্প্রাণ হয়ে আছে!

ঢাকার অন্যতম নিরাপদ এলাকা মিন্টো রোড। মন্ত্রিপাড়া বলেও পরিচিত এটি। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ব্রিটিশ আমলে আড়াই একর জায়গার ওপর বাড়িটি (২৯ নম্বর বাড়ি) করা হয় তখনকার সরকারি কর্মকর্তাদের বসবাসের জন্য। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর একসময় বাড়িটি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার জন্য নির্ধারণ করা হয়। বাড়িতে সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া উঠেছিলেন। ২০০১ সাল পর্যন্ত তাঁর নামে বাড়িটি বরাদ্দ ছিল। এরপর আর কোনো বিরোধীদলীয় নেতা সেখানে ওঠেননি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে জাতীয় পার্টির জি এম কাদের ওঠার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আর উঠতে পারেননি। তবে সেই সময় ভবনটির সংস্কার করা হয়।

উল্লেখ্য, সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১২টি আসন পেয়ে বিশাল বিজয় পেয়েছে বিএনপি জোট। জামায়াতে ইসলামী জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন। সে হিসাবে বিরোধী দল হতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দলের প্রধান যিনি হবেন তাঁর ওপর নির্ভর করবে সরকারি এই ভবনে তিনি থাকবেন কি না।

Manual7 Ad Code

সরেজমিন ভবনটি ঘুরে দেখা গেছে, ভিতরে শতবর্ষী দেবদারু গাছ যেন অনেক ইতিহাসের সাক্ষী। ভিতরে অর্ধশত বছরের বেশি বয়সি আরও গাছ আছে। দায়িত্বরতরা জানান, লাল দোতলা ভবনটির ওপরে ৪টি রুম ও ৪টি ওয়াশ রুম, নিচে ৬টি রুম ও ৪টি ওয়াশ রুম আছে। ভবনটিতে নতুন টাইলস, কমোড লাগানো আছে। তবে কোনো ফার্নিচার নেই। যিনি উঠবেন তাঁর ইচ্ছার ওপর ফার্নিচার কেনা হয়।

সরেজমিন মিন্টো রোডের ২৯ নম্বর বাড়িটিতে দেখা যায়, এর পশ্চিমে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বাসভবন, বিটিসিএল চেয়ারম্যান এবং একজন বিচারপতি থাকেন। প্রায় সঙ্গে লাগোয়া যমুনা ভবন। ভবনটির পূর্বে ডিএমপি পুলিশ কমিশনার, বিচারপতির বাসভবন আছে। আর উত্তরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিব, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ডিএমপি কমিশনার, একজন বিচারপতি, ঢাকা জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বাসভবন রয়েছে। ভবনটির অল্প দূরত্বে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কার্যালয়। বাড়িটির মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করে দেখা যায় কয়েকজন পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। প্রাচীরের ভিতরে বাড়ির সামনের অংশে রাধাচূড়া, কৃষ্ণচূড়া, পাইনসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। যার মধ্যে কোনোটি শতবর্ষী। আঙিনায় একপাশে সবুজ শাকসবজি করেছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। এ ছাড়া বাড়ির ভিতরে আম, কাঁঠাল, পেঁপে, কলাসহ বিভিন্ন ফলের গাছ রয়েছে।

বিরোধীদলীয় নেতার জন্য নির্ধারিত সরকারি বাসভবনের তিনজন কর্মচারীর মধ্যে মালি লাল মিয়া, পরিচ্ছন্নতাকর্মী কামাল হোসেন ও পানির লাইনের মিস্ত্রি আকরাম হোসেনের পরিবার থাকে বাড়ির পেছনের অংশে। এ ছাড়া বিরোধীদলীয় নেতা বসবাস করেন না বলে আরও চারটি পরিবার আপৎকালীন হিসেবে সেখানে বসবাস করছে।

Manual4 Ad Code

বাড়িটির দেখভালে থাকা গণপূর্তের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মেহবুবুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এই বাড়িটির ৯০ ভাগ কাজ কমপ্লিট (সম্পূর্ণ) আছে। রাস্তার অংশ আর রঙের ফিনিশিং করতে হবে। আসবাব দেওয়া হবে যিনি থাকবেন তাঁর চাহিদার ওপর। গত ২৫ বছর কেউ থাকেননি। এবার যদি কেউ থাকেন তাঁর সঙ্গে কথা বলব এবং আমরা সর্বোচ্চ এক থেকে দেড় মাস সময় নেব। এর মধ্যে সব ঠিক হবে। যিনি থাকবেন তারও কিছু নির্দেশনা থাকে, বলেন তিনি। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মিন্টো রোডের বাসাটি এখন পর্যন্ত বিরোধীদলীয় নেতার জন্য নির্ধারিত। এটি এখন ফাঁকা আছে। বরাদ্দ চাওয়ামাত্রই দেওয়া যাবে।

Manual1 Ad Code

গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় পার্টির (জাপা) রওশন এরশাদ বাড়িটি বরাদ্দ চেয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন। তবে তখন তাঁর নামে বাড়িটি বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বাড়িটি বরাদ্দের জন্য চিঠি দেন। তখন বাড়িটি তাঁর নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে তিনি বাড়িটিতে ওঠেননি। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিরোধীদলীয় নেতা জাতীয় পার্টির জি এম কাদের বাড়িটি বরাদ্দ চেয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। তিনি উঠতে পারেন সে বিবেচনায় সে সময় বাড়িটি নতুন করে সংস্কার করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি সেখানে আর উঠতে পারেননি।

 

বিডি প্রতিদিন

Latif Travels
Metropolitan University

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন

📞 মোবাইল: +8801712540420

✉️ ইমেইল: pavel.syl@gmail.com