কমলগঞ্জে চা বাগানে ‘ফাগুয়া উৎসব’ অনুষ্ঠিত
কমলগঞ্জ প্রতিনিধি
কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর চা বাগানসহ ভিভিন্ন চা শ্রমিকরা বৎসরে দুর্গাপূজা ও ফাগুয়া উৎসব দুই অনুষ্ঠানে মাতোয়ারা হয়ে উঠেন। বাগানে সনাতনী হিন্দু স¤প্রদায়ভুক্ত চা শ্রমিকদের দোল প‚র্ণিমায় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ফাগুয়া উৎসব উদযাপন হয়েছে।
শুরুতে চা শ্রমিকরা নিজেদের উৎসবের গান ও কাঠি নৃত্যসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে।
বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরীর সভাপতিত্বে ও সজল কৈরীর সঞ্চালনায় আলীনগর চা বাগানে শিবমন্দিরে চা শ্রমিকদের আয়োজনে উৎসবে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশের সিলেটস্থ নিযুক্ত সহকারী ভারতীয় হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস।
বিশেষ অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল আউয়াল, চা বাগান ব্যাবস্থাপক এ জেএম রফিকুল আলম, উপজেলা প‚জা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্যামল চন্দ্র দাস, সাবেক চেয়ারম্যান পুস্প কুমার কানু।
আলোচনা সভা শেষে চা বাগানের ছাত্র-যুবকরা ও প্রধান অতিথি একে উপরের গায়ে আবির রঙ মেখে র ফাগুয়া উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
জানা যায়, প্রাচীনকাল থেকে চা বাগানগুলোতে ফাগুয়ার উৎসব পালন করা হয়। লাল আবির রঙসহ নানা রঙ মাখামাখি করে একে অন্যের গায়ে ছিটিয়ে দেয়। বসন্তের রঙ লেগেছে কমলগঞ্জের সবুজ সমারোহের বিভিন্ন চা-বাগানে। বসন্তের রঙ-রূপে নতুন হয়ে উঠেছে প্রকৃতি। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চা গাছগুলোর ধূসর বর্ণ হলেও চা-বাগানের মানুষের জীবন দোলের রঙে ভরে উঠেছে। চিরসবুজ চা-বাগানগুলোর সনাতনী হিন্দু স¤প্রদায়ভুক্ত চা শ্রমিকদের শারদীয় দুর্গোৎসবের পর সবচেয়ে বড় উৎসব হলো দোল প‚র্ণিমা। তবে চা শ্রমিকদের ভাষায় এটি রঙের পরব বা ফাগুয়া। চা শ্রমিকরা কাঁদা ও রঙ খেলার মাধ্যমে ফাগুয়া উৎসব উদযাপন করে থাকেন।
এটি চা শ্রমিকদের একটি প্রাণের উৎসব। ফাগুয়া উৎসবে চা-বাগান কর্তৃপক্ষ চা শ্রমিকদের সাধারণ ছুটি দিয়ে থাকেন। সবকিছু ভুলে সকল চা শ্রমিক পরিবার এক হয়ে চা-বাগানে উৎসবটি পালন করেন। উৎসব চলবে ৫ দিনব্যাপী।