এনার্জি সেক্টরে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ অত্যন্ত জরুরি: জ্বালানিমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ‘আমাদের সরকার প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেন্ডলি সরকার। পার্টিকুলারলি এনার্জি সেক্টরে প্রাইভেটের ইনভেস্টমেন্ট আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। সেই জন্যই আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রাইভেট সেক্টরের সবার সাথে বসছেন এবং আমি নিজেও বসেছি।’
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট : সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দায়িত্বভার গ্রহণের পরে হঠাৎ করে মিডল ইস্টে যুদ্ধ হয়ে গেল। আমি বারবার বলা সত্ত্বেও যে আমার রিজার্ভ আছে আপনারা ভয় পায়েন না, আপনারা পেট্রল পাম্পে এত লাইন দিয়েন না এবং এই পেট্রল পাম্পে এমন বড় লাইন হলো যে আমার বাড়ির সামনে দুটো পেট্রল পাম্প আছে- তো সারারাত দেখলাম আমার বাড়ির সামনে মোটরসাইকেল দাঁড়িয়ে আছে। তো যা হোক আমরা অনেক চেষ্টা করে এটাকে বন্ধ করতে পেরেছিলাম। তেলের তো অভাব হয়নি।’
‘তারপরেও বিশাল লাইন। পরে দেখা গেল যে ব্ল্যাক মার্কেটিং শুরু হলো। পরে দেখা গেল অনলাইন ব্ল্যাক মার্কেটিং শুরু হলো যে অমুক জায়গায় এই এতো দামে তেল বিক্রি হবে অনলাইনে অর্ডার করলে তেল চলে গেল। এইটা দেখে আমি প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলাপ করলাম যে আমরা তেলের ব্যবসাটা প্রাইভেটে দিয়ে দেই। আমরা তো আছিই আর যারা প্রাইভেট আছে, কারণ আমরা তো অলরেডি প্রাইভেট থেকে তেল কিনি। এই যে কম্প্রেসড করে অকটেন পেট্রল বিক্রি করে কিছু কোম্পানি, তাদের কাছ থেকে আমরা কিনি এবং আমরা কিন্তু অকটেন পেট্রল খুব কম আমদানি করি, দেশ থেকেই কিনি আমরা। তো যদি ওইটা হতে পারে তো আমরা সব ওদেরকেই দিয়ে দেই না কেন। থাকুক দেশে দুইটা পেট্রল পাম্প- থাকুক একটা পদ্মা মেঘনা যমুনা থাকুক আরেকটা বেসরকারি। যেমন ইন্ডিয়াতে আছে ইন্ডিয়ান ওয়েল আর রিলায়েন্স।’
মন্ত্রী বলেন, ‘‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী বারবার বলছেন, ‘এই জ্বালানি নিয়ে অনেকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাচ্ছে। অনেকে ষড়যন্ত্র করছে’। আমিও তাদেরকে অনুরোধ করব, পলিটিক্স আপনারাও করেন, দেশের স্বার্থে করেন। দেশের ক্রাইসিস বাড়িয়ে দিয়ে আপনারা কোনো কিছু হাসিল করতে পারবেন না।’’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন একটা এফএসআরইউ বন্ধ হয়েছে আর সারা দেশে গ্যাসের জন্য হাহাকার লেগে গেছে। গ্যাস সংকট নিয়ে আমরা শিল্পমালিকদের সঙ্গে বসব। আমাদের দেশের শিল্পমালিকরা যেন বিপদে না পড়ে, সেদিকে আমরা খেয়াল রাখছি।’
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘আমাদেরকে খুব সতর্কতার সঙ্গে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে আগাতে হবে। কেননা এগুলো করার কারণে অনেক ফাইন্যান্স বন্ধ হয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সোলারের ব্যাপারে আমরা অ্যাগ্রেসিভ। এটাকে বিজনেস অরিয়েন্টেড করার জন্য আমরা কাজ করেছি। দুই মাসের মধ্যে আমরা পলিসি তৈরি করেছি। আমরা যা পলিসিতে বলেছি, ওটাই বাস্তবায়ন হবে। ওপেক্স মডেলে ঢাকা শহর থেকে শুরু করে সারা দেশে সোলার ছড়িয়ে দেওয়া হবে।’
বিডি প্রতিদিন