শাবিপ্রবিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত
শাবি সংবাদদাতা
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল ১০টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বৃক্ষরোপণ ও একটি বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলামের নেতৃত্বে র্যালিটি প্রশাসন ভবন-১-এর সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে এসে শেষ হয়।
পরে মিনি অডিটোরিয়ামে দিবসটি উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও গণিত বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আশরাফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও শাবিপ্রবির সিন্ডিকেট সদস্য আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী।
এতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একদলীয় শাসনের অবসানের পর তিনি সব রাজনৈতিক দলের অধিকার ফিরিয়ে দেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। আর দীর্ঘ আন্দোলনের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে আবারও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে।”
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “সে সময় সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান মুক্ত হন, যা দেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তন করে। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেন।”
অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদের জাতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। দীর্ঘ সময় এ দিবসটি পালনের সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং নতুন প্রজন্মকে ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাস কখনো জোর করে মুছে ফেলা যায় না। আমাদের শিক্ষার্থীদের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে, কারণ সঠিক ইতিহাস জানার মাধ্যমেই তারা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে।”
আলোচনা সভায় ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস: ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য, রাষ্ট্রীয় সংকট থেকে উত্তরণ এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মোরাদ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি এম রবিউল ইসলাম। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কালাম আহমদ চৌধুরী এবং সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. মখলিছুর রহমান।
এছাড়া আলোচনা সভায় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রক্টর, হলের প্রভোস্ট, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শাখা ছাত্রদলের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সূচনায় পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন হাফিজ মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক।
দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী কুরআন খতম এবং বাদ এশা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
সিলেটভিউ২৪ডটকম