শিশুর চিঠিতে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর, পরিদর্শনে সেতুমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
পটুয়াখালীর দুমকি ও বাউফল উপজেলাকে সংযুক্ত করতে লোহালিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বগা ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শনে এসেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
যোগাযোগ দুর্ভোগে থাকা এ অঞ্চলের মানুষের কষ্টের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি চিঠি লেখে বাউফলের দাসপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী আদিরা (৮)। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে সেখানে যান সেতুমন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে তিনি এখানে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেন।
মঙ্গলবার দুপুরে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার চরগরবদী ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা মাঠে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ আশ্বাস দেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী।
সমাবেশে মন্ত্রী বলেন, বাউফলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিরা বিনতে মাহামুদের লেখা একটি চিঠি ও ভিডিও চিত্র একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত হওয়ার পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। এরপর সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে বগা সেতু প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সবকিছু অনুকূলে থাকলে চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতেই বগা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী, জেলা পুলিশ সুপার, জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
স্থানীয়দের দাবি, বগা ফেরিঘাটে প্রতিদিন হাজারো মানুষ দুর্ভোগ পোহায়। বর্ষা মৌসুমে নদী পারাপারে ঝুঁকি ও দীর্ঘ যানজটের কারণে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি হয়ে উঠেছে বগা সেতু নির্মাণ।
ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য সেতুটি বাস্তবায়িত হলে বাউফল, দুমকি ও আশপাশের কয়েকটি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে, লোহালিয়া নদীর বগা ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শনে এসে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের উত্তেজনার মুখে পড়ে পড়েন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে সেতুমন্ত্রী বগা ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছান। তাকে স্বাগত জানাতে নদীর পূর্বপাড়ে সভার আয়োজন করেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। সভাস্থল ঘিরে সকাল থেকেই বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সভাস্থলের ব্যানার ও ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি না থাকায় তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় বাক-বিতণ্ডা। পরে মন্ত্রীকে বহনকারী গাড়িবহর ফেরি পার হয়ে সভাস্থলের দিকে অগ্রসর হলে একদল বিএনপি সমর্থক গাড়িবহর ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করে।
এ সময় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান, হট্টগোল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ধরে মন্ত্রী কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় তিনি সভাস্থলে না গিয়ে একই ফেরিতে পশ্চিমপাড়ের দুমকি উপজেলার চরগরবদী এলাকায় যান। সেখানে দুমকি উপজেলার ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-পাগলা-বগা-বাউফল-দশমিনা আঞ্চলিক মহাসড়কের লোহালিয়া নদীর ওপর ‘বাংলাদেশ-চীন নবম মৈত্রী সেতু’ নির্মাণের পরিকল্পনা আগের সরকারের আমলে গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রাথমিক সমীক্ষা ও নকশা প্রণয়নের আলোচনা এগোলেও ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রকল্পটির অগ্রগতি থমকে যায়। নতুন করে সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু হওয়ায় এলাকাবাসী আবারও আশার আলো দেখছে।
বিডি প্রতিদিন