ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়তুল্লাহ আলি খামেনি
অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডে ইরান নতি স্বীকার করবে না
অনলাইন ডেস্ক
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়তুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন, অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের মুখে ইরান নতি স্বীকার করবে না। শুক্রবার তিনি এই মন্তব্য করেন বলে ফ্রান্স২৪-এর খবরে বলা হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভের মধ্যে প্রথম বক্তব্যে সমর্থকদের উদ্দেশে খামেনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে এক হাজারের বেশি ইরানির রক্ত লেগে আছে। তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানের সাম্রাজ্যবাদী শাসনের যেমন পতন ঘটেছিল, ‘অহংকারী’ ট্রাম্পের জন্য তেমন পরিণতি অপেক্ষা করছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রথমে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের ব্যবসায়ীরা নতুন করে আন্দোলন শুরু করেন। এরপর এতে সব ধরনের মানুষ যুক্ত হন। যা গত ১২দিন ধরে টানা চলছে। এরমধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে বিক্ষোভের মাত্র বেড়ে যায়। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন জায়গায় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন।
তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) জানিয়েছে, ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার পর সেখানে এখন মোবাইল ফোন সেবাও বন্ধের পথে রয়েছে। অনেক জায়গায় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে না।
দেশটির নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি ব্যাপক বিক্ষোভে কার্যত অচল ইরানের বিক্ষুব্ধ জনগণকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন । সেই সঙ্গে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে জনগণের পাশে থাকার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ভিডিওবার্তা পোস্ট করেন ক্রাউন প্রিন্স পাহলভি। সেই বার্তায় ইরানের বিক্ষুব্ধ জনতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আমার প্রিয় দেশবাসী, গত এক সপ্তাহ ধরে আমি আপনাদের বিক্ষোভ কর্মসূচি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি, বিশেষ করে তেহরানের বাজারগুলোতে আপনারা যেসব কর্মসূচি পালন করেছেন— সেগুলো। বর্তমান সরকারের ভয়াবহ দমন-পীড়ন সত্ত্বেও যেভাবে আপনারা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। যে কোনো দেশের সরকার যতই শক্তিশালী হোক না কেন—জনগণ ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুললে এক পর্যায়ে সরকারের সমর্থকরাও তাতে যোগ দেয় এবং সরকার তারা ক্ষমতা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।’
বিডিপ্রতিদিন