মৌলভীবাজারে চো রা ই মোটরসাইকেলের সাথে উ দ্ধা র যেসব স র ঞ্জা ম
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি
মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখার বিশেষ অভিযানে দুটি চোরাই মোটরসাইকেল, মোটরসাইকেলের পার্টস এবং চুরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতিসহ মিল্টন সরকার (৪৯) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি হলেন, নরসিংদী জেলার পশ্চিম কান্দাপাড়া (সেবা সংঘ মাঠের পিছনের বাড়ি) মৃত হারাধন সরকার প্রকাশ হারাধন সাহার ছেলে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকালে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন।
তিনি বলেন, গত ২ জানুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বরহাট এলাকার ‘রাজা কমপ্লেক্স’ নামক বাসার গ্যারেজ থেকে জনৈক আজহারুল ইসলামের মালিকানাধীন একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে মৌলভীবাজার সদর থানায় একটি মামলা রুজ্জু করা হয়। জেলা গোয়েন্দা শাখা মামলাটি তদন্তের জন্য কার্যক্রম শুরু করে।
পুলিশের সোর্স, সিসিটিভি ফুটেজ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাতে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানাধীন ভাড়াউড়া বাগান এলাকা থেকে মিল্টন সরকার ওরফে মিল্টন কুমার সাহা ওরফে মো. সোহেলকে (৪৯) গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চুরির ঘটনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, মামলার চোরাই মোটরসাইকেলটি সে সিলেট জেলার এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছে। মোটরসাইকেল উদ্ধারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এছাড়াও আসামি জানায়, ঘটনার সময় ব্যবহৃত হেলমেটসহ আরও কিছু চোরাই মালামাল তার বর্তমান ঠিকানা অর্থাৎ মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সরকারবাজার এলাকার মাদ্রাসা-ই দারুল মোস্তফার ভাড়া ঘরে সংরক্ষিত।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই আলামত উদ্ধারের লক্ষ্যে আসামিকে সঙ্গে নিয়ে শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ি, মৌলভীবাজারের টহল টিমের সহায়তায় উক্ত ঠিকানায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ১টি ১৫০ সিসি লাল-কালো রঙের মোটরসাইকেল, ১টি ১৫০ সিসি লাল-কালো মোটরসাইকেল, বিভিন্ন রঙের মোট ৬টি হেলমেট, মোটরসাইকেলের ৫টি লুকিং গøাস, ২১টি চাবি, সাইজের ১৫টি তালা, বিভিন্ন সাইজের ৮টি ঢাল, ১টি বড় রেঞ্জ, ৯টি স্ক্রু ড্রাইভার, ১টি প্লায়ার্স, ২টি ওয়্যার কাটার, ২টি রেত ও ১টি রেইনবো স্প্রে পট (গাড়ির রং করার বোতল)।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তারতারকৃত আসামি একজন পেশাদার ও সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং এই চক্রের অন্যতম মূল হোতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করে তা অজ্ঞাতনামা চোরাকারবারীদের কাছে বিক্রি করছিলেন। অত্র মামলার ঘটনার সঙ্গেও তার সরাসরি সম্পৃক্ততার সত্যতা প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে।
তিনি আরো বলেন, এছাড়াও জানা গেছে, ধৃত আসামির বিরুদ্ধে সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ২৭টি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, সদর সার্কেল অফিসার আবুল খয়ের, সদর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম ও ডিবির ওসি সুদীপ্ত ভট্টাচার্য।